পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী বিপুল পরিমাণ লিলেন সামগ্রী এবং সরকারি টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) ভ্যাকসিন ক্যারিয়ার আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনের নির্দেশে প্রকাশ্যে এসব অব্যবহারযোগ্য সামগ্রী বিনষ্ট করা হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পূর্ব পাশের খালপাড়ে এ ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ খাইরুল ইসলাম চৌধুরী উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে নষ্ট, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়া এসব সামগ্রী হাসপাতালের নিয়মিত কার্যক্রমে আর ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছিল না। কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত করে সেগুলো ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ধ্বংস করা সামগ্রীর মধ্যে ছিল ৯০৫টি বিছানার চাদর, ১৮৪টি তোশক (ম্যাট্রেস), ১৮৪টি তোশকের কভার, ২৮০টি মশারি, ৮৫টি কম্বল, ৩৫২টি বালিশ, ৩৩৩টি বালিশের কভার এবং ৪টি পর্দা।
এ ছাড়া সরকারি টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) ব্যবহারের অনুপযোগী ১০৭টি ভ্যাকসিন ক্যারিয়ার/কভার ধ্বংস করা হয়। এর মধ্যে বড় আকারের ৬০টি, মাঝারি আকারের ১৫টি এবং ছোট আকারের ৩২টি রয়েছে।
বুধবার নির্ধারিত সময়ে এসব সামগ্রী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্দিষ্ট স্থান থেকে সরিয়ে খালপাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আগুন দিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয়। এ সময় ধ্বংস কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
মালামাল বিনষ্টকরণ কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহিদুল হাসান শাহীন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. জিএম এনামুল হক।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের অনুপযোগী ও মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী পড়ে থাকলে তা একদিকে যেমন জায়গা দখল করে রাখে, অন্যদিকে যথাযথ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন তৈরি করে। নিয়ম অনুযায়ী এসব সামগ্রী ধ্বংসের মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অব্যবহারযোগ্য মালামাল ব্যবস্থাপনার একটি ধাপ সম্পন্ন হলো।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে এসব সামগ্রী ধ্বংস করায় পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মতামত