পটুয়াখালীর দুমকিতে শ্রেণিকক্ষে সহপাঠীদের মারধরে মো. রাফি নামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তাকে উদ্ধার করে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার দুমকি আপতুননেছা খাতুন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বেশ কিছুদিন ধরে রাফিকে শ্রেণিকক্ষেই কয়েকজন সহপাঠী বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত। জিহাদ, রাজন, সাহাদ, আল-আমীন, মেহেদী, তামিম ও নুরনবীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে তাকে বিভিন্ন সময় ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও শারীরিকভাবে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে।
রাফির অভিযোগ, সহপাঠীরা তাকে ‘লম্বু’ ও ‘উপজাতি’ বলে ব্যঙ্গ করত। কখনো কলম দিয়ে খোঁচা দেওয়া এবং গলা চেপে ধরার মতো আচরণও করা হতো। বিষয়টি তিনি একাধিকবার শিক্ষকদের জানিয়েছিলেন বলে দাবি তার। তবে অভিযোগ জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাফি বলেন, মঙ্গলবার ক্লাস চলার সময় সহপাঠীরা হঠাৎ তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর আহত শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে না নিয়ে বিদ্যালয়ের পিয়ন নজরুলের মাধ্যমে প্রায় দেড় ঘণ্টা লাইব্রেরিতে বসিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছেন রাফির পরিবার। পরে তার মাকে খবর দেওয়া হলে তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে ছেলেকে আহত অবস্থায় দেখতে পান।
রাফির মা মোসা. সুমি বেগম বলেন, তার ছেলে স্বভাবগতভাবে শান্ত হওয়ায় আগে সহপাঠীদের হয়রানির বিষয়টি বাড়িতে জানায়নি। বিদ্যালয় থেকে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি ছেলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। শিক্ষকদের আরও সতর্কতা ও তদারকি থাকলে এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর পর্যাপ্ত নজরদারি নেই। ক্লাস ও বিরতির সময়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়েও শিক্ষকদের তদারকির ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা হেপি বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুমকি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি আগে ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। বিদ্যালয়ের ভেতরে শিক্ষার্থীকে মারধর এবং শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর পরিবার ন্যায়বিচার ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে।
মতামত