পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মো. রাসেল হাওলাদার (২৮) নামের এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করার পর দণ্ড দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল হাওলাদার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার প্রতাপ এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাসেল বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি কুয়াকাটায় এসে একই পরিচয়ে একটি হোটেলে কক্ষ বুক করেন। পরে একটি বিকাশের দোকানে গিয়ে ওই পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা ‘চার্জ’ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
শুধু কুয়াকাটাতেই নয়, বিয়ের ক্ষেত্রেও রাসেল নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তার দুটি বিয়ে হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
রাসেলের ভুয়া পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সরকারি নথি জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে। সূত্র জানায়, ৪৪তম বিসিএসের গেজেটে ২৩২ নম্বর ক্রমিকে থাকা ‘মো. রাসেল মিয়া’ নামটি পরিবর্তন করে ‘মো. রাসেল হাওলাদার’ করা হয়। এ কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন। এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগপত্র জাল করার অভিযোগও রয়েছে।
বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর মহিপুর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. মাসুদ খানের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় রাসেল হাওলাদারকে আটক করার পাশাপাশি তার কাছে থাকা বিভিন্ন কাগজপত্র ও নথি যাচাই করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৭০ ধারায় রাসেল হাওলাদারকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক বলেন, ‘নিজেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে কেউ যাতে মানুষকে প্রতারিত করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।’
মতামত