পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে নাজিরপুর গোল্ডেন ফুটবল টুর্নামেন্টের জমজমাট ফাইনাল খেলা। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ এ ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে কোনো দল গোল করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়। এতে ব্যাচ-২৪ একাদশকে ২-০ গোলে পরাজিত করে টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে নাজিরপুর জুনিয়র স্টার একাদশ।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ধানদী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা দেখতে মাঠে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী অসংখ্য দর্শক ও স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা।ফাইনালে মুখোমুখি হয় নাজিরপুর জুনিয়র স্টার একাদশ ও ব্যাচ-২৪ একাদশ। নির্ধারিত সময়ের খেলায় উভয় দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মধ্য দিয়ে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ানোর চেষ্টা করে। তবে দুই দলের খেলোয়াড়দের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের পরও কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। সেখানে ২-০ গোলের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে জুনিয়র স্টার একাদশ।খেলা শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে চ্যাম্পিয়ন দলকে ২০ হাজার টাকা এবং রানার্সআপ দলকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ। টুর্নামেন্টে পৃষ্ঠপোষকতা করেন বিএনপি নেতা ও নাজিরপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হাজী মাসুম বিল্লাহ পলাশ।এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ক্রীড়া সংগঠক এবং বিপুলসংখ্যক ফুটবলপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার এমন আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পটুয়াখালী জেলার উন্নয়ন, সামাজিক সংহতি এবং যুব সমাজের ক্ষমতায়নকে ত্বরান্বিত করার অঙ্গীকার নিয়ে ‘সৌন্দর্যের লীলাভূমি পটুয়াখালী’ ফেসবুক গ্রুপের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং জাতীয় যুব দিবস মহাসমারোহে উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে পটুয়াখালী ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক চমৎকার ও প্রাণবন্ত আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং বি.এন.সি চক্ষু হাসপাতাল পটুয়াখালীর সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো: মনিরুল ইসলাম লিটন। প্রধান মেহমান হিসেবে যোগ দেন পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব আবদুল্লাহ আল নাহিয়ান। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সুযোগ্য সভাপতি মো: নাদিম মাহমুদ। এছাড়াও বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন: জনাব আবদুস সত্তার, উপজেলা কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, পটুয়াখালী সদর। জনাব জহিরুল ইসলাম, একুশ ল্যাঙ্গুয়েজ একাডেমী, ফার্মগেট, ঢাকা। ডা: জহিরুল ইসলাম, প্রভাষক, বরিশাল ইউনানি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। আবদুর রহমান রাজীব, উপদেষ্টা, পটুয়াখালী ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। জি.এম কায়ুম, উপদেষ্টা, পটুয়াখালী ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। আহমেদ কাওসার, উপদেষ্টা, পটুয়াখালী ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। মো: মুশফিকুর রহমান মিরাজ, প্রতিষ্ঠাতা, পটুয়াখালী ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন।অনুষ্ঠানে বক্তারা পটুয়াখালীর পর্যটন, সামাজিক উন্নয়ন এবং তরুণ সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। ‘সৌন্দর্যের লীলাভূমি পটুয়াখালী’ ফেসবুক গ্রুপটি বিগত ৭ বছর ধরে জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ইতিবাচক দিকগুলো বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে কীভাবে কাজ করে যাচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। যুব দিবস উপলক্ষে বক্তারা তরুণদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক কাজে যুব সমাজকে আরও কীভাবে সক্রিয় করা যায় সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথনির্দেশনা প্রদান করেন।পটুয়াখালী ইউথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আগামী দিনে জেলার সার্বিক উন্নয়নে আরও সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ এবং গ্রুপের সুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয় এবং কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন সম্পন্ন হয়।
পটুয়াখালীর গলাচিপায় মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি বাবুল খান (৬০)। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খারিজ্জমা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামছু খানের ছেলে বাবুল খান দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় চার থেকে পাঁচটি ঘের ও পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁর একটি মাছের ঘেরে দুর্বৃত্তরা বিষ প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, মৃগেল, মিনার কার্প ও সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যায়।ঘেরের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আরিফ হোসেন জানান, বিষ প্রয়োগের পর মাছগুলো পানিতে ছটফট করতে করতে ঘেরের পাড়ে উঠে আসে। বড় আকারের অনেক মাছ পানির মধ্যেই মারা যায়। শুক্রবার সকালে ঘেরে গিয়ে মাছ মরে ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন। তাঁর দাবি, কয়েক মণ মাছ ইতোমধ্যে মারা গেছে। দ্রুত মৃত মাছ অপসারণ ও মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা না করলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা নুরু মৃধা জানান, ঘেরটিতে তিন থেকে চার কেজি ওজনের প্রায় ২০ হাজার মাছ ছিল। বিষ প্রয়োগের ঘটনায় মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।এ ঘটনায় ঘেরের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আরিফ হোসেন কলাগাছিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাকসুদুর রহমান বলেন, মাছ মারা যাওয়ার ঘটনায় ঘেরের মালিক বাবুল খান বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।খবর পেয়ে কলাগাছিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, ঘেরটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হবে। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অন্যদিকে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাছচাষিরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় শুধু একজন উদ্যোক্তার আর্থিক ক্ষতিই নয়, স্থানীয় মৎস্য খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পটুয়াখালীর জৈনকাঠীতে নূরনগর হামিদুস সুন্নাহ মাদ্রাসার উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী দাওয়াত, তালিম, ইসলাহী জোড় ও ওয়াজ মাহফিলে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মাহফিলে পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করেন ৬নং জৈনকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মুহাম্মদ আজাদুল হক আজাদ মুন্সি। নামাজ শেষে তিনি মাহফিলে আগত মুসল্লি ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং কুশল বিনিময় করেন।মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ৬, ৭ ও ৮ নভেম্বর ২০২৬ ইং তারিখে চারাবুনিয়া, জৈনকাঠী, পটুয়াখালীতে এ তিন দিনব্যাপী ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো ধর্মীয় শিক্ষা, ইসলামী আদর্শের প্রচার, আত্মশুদ্ধি এবং মানুষের মধ্যে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করা। মাহফিলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করছেন।জুমার নামাজ আদায় ও মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে মুহাম্মদ আজাদুল হক আজাদ মুন্সি স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। স্থান: নূরনগর হামিদুস সুন্নাহ মাদ্রাসা, চারাবুনিয়া, জৈনকাঠী, পটুয়াখালী।
মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদল। অসহায় ও মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভবঘুরে ব্যক্তির পাশে দাঁড়িয়ে তার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাসহ খাবারের ব্যবস্থা করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাকারিয়া আহমেদের নির্দেশনায় এ মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।উদ্যোগের অংশ হিসেবে অসহায় ওই ব্যক্তির চুল ও নখ কেটে দেওয়া হয়। পরে তাকে গোসল করিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় এবং পরিধানের জন্য পরিচ্ছন্ন পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি তার জন্য এক বেলা খাবারেরও আয়োজন করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এ উদ্যোগের তথ্য থেকে জানা যায়, সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ এবং মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। উদ্যোগটি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এমডি বায়েজিদ চৌধুরী।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তরুণ সমাজকে উৎসাহিত করবে। মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের চর্চা অব্যাহত থাকলে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)-এর ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আনন্দ র্যালি ও সমাবেশে অংশ নিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন পটুয়াখালী জেলা গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে সফল ও সার্থক করতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে ঢাকার পথে যাত্রা করেছেন। এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন নেতৃবৃন্দ।এদিকে পটুয়াখালী জেলা থেকে যাত্রা করা সব নেতাকর্মীর নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা কামনা করা হয়েছে। পাশাপাশি গণঅধিকার পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ র্যালি ও সমাবেশ সফল, সার্থক ও প্রাণবন্ত হোক—এমন প্রত্যাশাও জানানো হয়েছে। পটুয়াখালী জেলা গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নিরাপদ ও সুপেয় পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থলে ৬০টি গভীর নলকূপ হস্তান্তর করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনসাধারণের ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ স্থানের জন্য এসব গভীর নলকূপ হস্তান্তর করা হয়।এ উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, মন্দিরে আসা ভক্ত, ব্যবসায়ী, ক্রেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমস্থলে দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে, সেখানে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।স্থানীয়দের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে মসজিদ ও মন্দিরে আগত মানুষের পাশাপাশি হাটবাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের দৈনন্দিন পানির চাহিদা পূরণেও এসব নলকূপ সহায়ক হবে।সংশ্লিষ্টরা জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের পানির ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নলকূপগুলো যথাযথ স্থানে স্থাপন, নিয়মিত ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারবেন।নলকূপ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা মো. মুজাহিদুল ইসলামসহ বগা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।স্থানীয় জনসাধারণের জন্য নিরাপদ পানির সুযোগ সম্প্রসারণে ৬০টি গভীর নলকূপ হস্তান্তরের এ উদ্যোগকে একটি জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।
সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে শ্যামাপূজার সরকারি ছুটি মিলিয়ে টানা তিন দিনের অবকাশে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র ‘সাগরকন্যা’ কুয়াকাটা। সাগরের উত্তাল ঢেউ, বিস্তীর্ণ বালুচর আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা। পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতিতে সৈকতজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। একই সঙ্গে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল থেকেই কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমন বাড়তে শুরু করে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে সৈকতের জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় পর্যটকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। কেউ সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন, কেউ পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। আবার অনেককে সৈকতের বালুচরে ঘুরে বেড়াতে এবং বেঞ্চে বসে সমুদ্রের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেখা যায়।শুধু মূল সৈকতের জিরো পয়েন্ট নয়, প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের লেম্বুরবন, চর গঙ্গামতিসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানেও পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ছুটির আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসেছেন এই পর্যটন নগরীতে।পর্যটকদের এমন উপস্থিতিতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে কুয়াকাটার পর্যটন খাতে। হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, ঝিনুক ও হস্তশিল্পের দোকান, ফটোগ্রাফারসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার মানুষের ব্যস্ততা বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অধিকাংশ হোটেল-মোটেলের কক্ষ বুকিং থাকায় স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পর্যটকদের আগমনে খুশি ব্যবসায়ীরাও।স্থানীয় ঝিনুক ব্যবসায়ী মো. ইয়াসিন বলেন, “টানা তিন দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় জমেছে। এতে আমাদের বেচাকেনাও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।”হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোতালেব শরীফ বলেন, “টানা তিন দিনের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক কুয়াকাটায় এসেছেন। সারা বছর যদি পর্যটকদের এমন ধারাবাহিক আগমন বজায় থাকে, তাহলে পর্যটন ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন এবং কুয়াকাটার অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।”এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি থানা-পুলিশও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক বলেন, কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য পৌর প্রশাসন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশেষ ছুটি ও উৎসবকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের এমন আগমন কুয়াকাটার পর্যটনশিল্পের জন্য ইতিবাচক বার্তা। বছরজুড়ে পর্যটকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও গতিশীলতা আসবে।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা. ইসরাত জাহান যুথি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সুবিদখালী সরকারি রহমান ইসহাক পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা যুথি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সুবিদখালী সরকারি রহমান ইসহাক পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল হালিম, সহকারী শিক্ষক আবদুল মালেক, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আশ্রাফ আলী হাওলাদার এবং উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুন আর রশিদ মুন্সী।বক্তারা বলেন, একজন শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তাঁরা দ্রুত মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফাঁসির দাবি জানান।উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকালে সুবিদখালী সরকারি রহমান ইসহাক পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী যুথি। এরপর সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ওই দিন যুথি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়নি।নিখোঁজের দুই দিন পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে বাড়ির পাশের একটি পানের বরজের কাছে স্থানীয়রা তার জুতা দেখতে পান। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে পানের বরজের পাশে যুথির মরদেহ পাওয়া যায়।খবর পেয়ে মির্জাগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা যুথি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কুয়াকাটার পরিচিত ব্যক্তিত্ব ও আলেম হাবিবুর রহমান মিছবাহর বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহলের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মহিপুর ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ তোফাজ্জেল হোসাইন সিপাহী। সম্প্রতি মিছবাহর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো নানা অভিযোগ ও বানোয়াট তথ্যের বিষয়ে নিজের নিরপেক্ষ তদন্তের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে একটি স্পষ্ট বিবৃতি দিয়েছেন তিনি।বিবৃতিতে তোফাজ্জেল হোসাইন সিপাহী জানান, সম্প্রতি মিছবাহর বিরুদ্ধে একটি চক্র ‘নয়টি বিয়ের’ গল্প সাজায়, যার মধ্যে মহিপুরের এক তরুণী বুশরার নামও যুক্ত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে মুফতী মিছবাহ রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তা তদন্ত করার জন্য তাঁর ওপর আস্থা রাখেন এবং তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।জামায়াত সভাপতি জানান, দায়িত্ব পেয়ে তিনি বুশরার ঠিকানা খুঁজে বের করেন এবং তার বাবাকে সঙ্গে রেখে বুশরার সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টা কথা বলেন। তাঁর দীর্ঘ তদন্ত ও পর্যালোচনায় চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য সামনে আসে:পরিকল্পিত শিখিয়ে দেওয়া বয়ান: বুশরার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিছবাহর দ্বিতীয় স্ত্রী নাঈমা ওই তরুণীকে শিখিয়ে-পড়িয়ে তৈরি করেছিলেন। নাঈমার দাবি ছিল, বুশরা মুফতী মিছবাহর বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করলে নাঈমার নিজের সংসার ভাঙবে না—এই ভুল বুঝিয়ে তাকে ব্যবহার করা হয়েছে।ইমরানের ভূমিকা ও ঘনিষ্টতা: বুশরা ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইমরান নামের এক ব্যক্তি (যিনি মিছবাহর পিএস হিসেবে পরিচিত) সম্পর্কেও চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। বুশরা প্রথমে অস্বীকার করলেও তাদের কল রেকর্ড ও দীর্ঘ ফেসবুক কথোপকথন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইমরান ও বুশরার মাঝে সাধারণ সম্পর্কের চেয়েও বেশ ঘনিষ্ঠতা ছিল। এই ইমরান সাহেবও বুশরাকে মিছবাহর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে শিখিয়ে দিয়েছিলেন।ব্যক্তিগত সম্পর্কের অস্বীকার: বুশরার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, হাবিবুর রহমান মিছবাহর সঙ্গে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল না। এমনকি মিছবাহর সঙ্গে তাঁর সামনা-সামনি দেখা কিংবা সরাসরি কথা বলার কোনো ঘটনাও ঘটেনি বলে বুশরা স্বীকার করেছে।রাজনৈতিক ভিন্নতা সত্ত্বেও সত্যের পক্ষে অবস্থানমোহাম্মদ তোফাজ্জেল হোসাইন সিপাহী স্পষ্ট করে বলেন, মুফতী মিছবাহর সঙ্গে তাঁর কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই, বরং তাঁরা দুজন বিপরীতমুখী রাজনৈতিক মতাদর্শ লালন করেন। তিনি বলেন, "মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু সেই কারণে কারও ব্যক্তিত্ব নষ্ট করা কিংবা কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা আমার উদ্দেশ্য হতে পারে না। যেহেতু তিনি আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, তাই শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই আমি সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করেছি।সম্মানিত দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে জামায়াত সভাপতি বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো কিছু দেখলেই তা অন্ধের মতো বিশ্বাস না করে সত্যতা যাচাই করা উচিত। সামান্য পারিবারিক বিরোধ বা সামাজিক দ্বন্দ্বকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিনোদনের খোরাক না বানিয়ে, প্রকৃত অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রমাণ ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করার তাগিদ দেন তিনি।ইসলামের দৃষ্টি স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা হলো—যে ব্যক্তি অন্যের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন। সত্য প্রতিষ্ঠিত হোক, অন্যায়ের বিচার হোক এবং কারও ব্যক্তিগত মর্যাদা যেন অকারণে ক্ষুণ্ন না হয়।
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়ন বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ের তালা ভেঙে প্রায় অর্ধলাখ টাকার মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার পাগলা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে যাওয়ার পর দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে ভেতরে প্রবেশ করে কার্যালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী খুঁজে না পেয়ে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন তাঁরা।চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন, ৪০টি চেয়ার, দুই ডজন কাপ-পিরিচ, একটি আকাশ ডিশ সংযোগের সরঞ্জাম এবং সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য অর্ধলাখ টাকা বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে চরবোরহান ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল শেষে আয়োজিত পথসভা থেকে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।চরবোরহান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল গাজী জানান, মাগরিবের নামাজের পর তিনি ফোনে কার্যালয়ের তালা ভাঙা এবং মালামাল চুরির খবর পান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা টেলিভিশন, চেয়ার, কাপ-পিরিচ, আকাশ ডিশের সরঞ্জামসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দেখতে পাননি। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে। বিএনপির কার্যালয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনাকে সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।চরবোরহান ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইউনূস হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক সুমন হাওলাদার বলেন, অস্থায়ী কার্যালয়ে ঢুকে এভাবে মালামাল চুরির ঘটনা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। তাঁদের ধারণা, ঘটনাটি পরিকল্পিত। বিষয়টি উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁরা আইনের আশ্রয় নেবেন বলেও জানান।উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ছিদ্দিক মোল্লা বলেন, চুরির বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পরদিন শুক্রবার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি জেনেছেন। তবে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পটুয়াখালী জেলা শাখার ২০২৭-২০২৮ সেশনের জেলা আমীর হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন অ্যাডভোকেট মো. নাজমুল আহসান। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক অ্যাডভোকেট মো. মতিউর রহমান আকন্দ।পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শহীদুল ইসলাম আল কায়ছারীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা মো. ফখরুদ্দিন খান রাযী এবং মাওলানা আ. ছালাম খান।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. আলমগীর হোসাইন ও এ বি এম সাইফুল্লাহসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মো. মতিউর রহমান আকন্দ সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নবনিযুক্ত জেলা আমীর অ্যাডভোকেট মো. নাজমুল আহসানকে সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।তিনি সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন।শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে অ্যাডভোকেট মো. নাজমুল আহসান ২০২৭-২০২৮ সেশনে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ তাঁকে নতুন দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা ও সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পটুয়াখালীর বাউফলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের সামনে কাফনের কাপড় পরে শপথ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাউফলে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ের সামনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কাফনের কাপড় পরে সমবেত হন। এ সময় তাঁরা শপথ গ্রহণ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রতিবাদ তুলে ধরার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে এমন কর্মসূচি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে এ ধরনের কর্মসূচি পালন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।তবে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, শপথের বক্তব্য, বিক্ষোভের কারণ এবং কর্মসূচির আয়োজকদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্যও পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হবে।
প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত পাঁচ পদে দায়িত্ব গ্রহণ, বাজারের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকারপটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার রতনদি-তালতলী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী কাটাখালি বাজার কমিটির নবনির্বাচিত সদস্যদের পরিচিতি সভা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে কাটাখালি বাজার মাঠে এ পরিচিতি সভা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এর আগে গত ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে কাটাখালি বাজার কমিটির পাঁচটি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. জামাল মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক পদে নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ পদে মো. হিরন খান, প্রচার সম্পাদক পদে মো. খোকন এবং নির্বাহী সদস্য পদে মো. আলাউদ্দিন নির্বাচিত হন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ। এতে সভাপতিত্ব করেন কাটাখালি বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি মো. শাহ আলম বয়াতি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাজার কমিটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. বাবুল গাজী।অনুষ্ঠানের শুরুতে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। এ সময় উপস্থিত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা নতুন কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানান এবং বাজারের সার্বিক উন্নয়নে তাঁদের সহযোগিতা কামনা করেন।শপথ গ্রহণ শেষে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একটি বাজারের সার্বিক উন্নয়ন ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি। প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত নতুন কমিটির প্রতি ব্যবসায়ীদের যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা বাস্তবায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।তাঁরা আরও বলেন, বাজারের সমস্যা চিহ্নিত করে ব্যবসায়ীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নতুন কমিটি ব্যবসায়ীদের অধিকার রক্ষা, বাজারের পরিবেশ উন্নয়ন এবং ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃত্বে কাটাখালি বাজারের ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল ও গতিশীল হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারের সার্বিক উন্নয়নে নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরাসরি সম্প্রচার, উপস্থিত ছিলেন ইউএনও ও ওসিসহ সরকারি কর্মকর্তারাতৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২০২৭ (সিজন-২)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে উপভোগ করেছেন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উদ্বোধনী আয়োজন বাউফল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ সম্প্রচার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ, বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এ সময় দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে এমন আয়োজনের গুরুত্বও উঠে আসে।সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মতো প্রতিযোগিতা শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।বাউফলের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের এ আয়োজন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার পরিবেশ সম্প্রসারণ এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দর্শনার্থী ও উদ্যোক্তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করছেন স্বেচ্ছাসেবীরাপটুয়াখালীতে অনুষ্ঠিত বিসিক উদ্যোক্তা মেলায় আগত দর্শনার্থী, উদ্যোক্তা ও অংশগ্রহণকারীদের জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, পটুয়াখালী ইউনিটের একটি ফার্স্ট এইড মেডিকেল টিম। মেলায় যেকোনো ধরনের আকস্মিক অসুস্থতা কিংবা ছোটখাটো দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে এ সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।মেলায় আগত মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, পটুয়াখালী ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবীরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। মেলা চলাকালে কোনো দর্শনার্থী, উদ্যোক্তা কিংবা অংশগ্রহণকারী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে অথবা দুর্ঘটনাজনিত কারণে আহত হলে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বড় ধরনের জনসমাগমপূর্ণ আয়োজনগুলোতে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মেলায় শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও বিভিন্ন বয়সী মানুষের সমাগম ঘটে। দীর্ঘ সময় ঘোরাফেরা, ক্লান্তি, গরম কিংবা আকস্মিক দুর্ঘটনার কারণে কেউ অসুস্থ বা আহত হতে পারেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পাওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রে পরবর্তী জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই মেলায় রেড ক্রিসেন্টের মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করছে।বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, পটুয়াখালী ইউনিটের এ উদ্যোগকে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, শুধু দুর্যোগকালীন সময়েই নয়, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনসমাগমপূর্ণ অনুষ্ঠানেও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এমন দায়িত্বশীল ভূমিকা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক।রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবীরা মানবিকতা, সেবা ও সহমর্মিতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছেন। তাঁদের এ কার্যক্রমের মাধ্যমে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও নিশ্চিত হচ্ছে।উল্লেখ্য, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি একটি মানবিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। দুর্যোগ মোকাবিলা, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থেকে কাজ করে আসছে।পটুয়াখালী ইউনিটের এ উদ্যোগের মূল প্রতিপাদ্য— ‘মানবতার টানে, মানুষের পাশে।’ মানবিক সেবার এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতেও জনসাধারণের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবীরা।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।