পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
শিক্ষার্থীদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো, নিয়মিত পাঠাভ্যাস তৈরি এবং পাঠ্যবইয়ের বাইরের জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ, শ্রেণিশিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পটুয়াখালী জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার পরিদর্শন করেছেন।
সম্প্রতি আয়োজিত এ পরিদর্শন কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা গণগ্রন্থাগারের বিভিন্ন শাখা ঘুরে দেখে বই পড়ার পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা নেয়। এ সময় গণগ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেন এবং গ্রন্থাগারে থাকা বিভিন্ন ধরনের বই ও প্রকাশনার সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন।
গণগ্রন্থাগারে গিয়ে শিক্ষার্থীরা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন লেখকের বই, পত্রিকা, জার্নাল, সাময়িকী ও সংবাদপত্র পড়ার সুযোগ পায়। পাঠ্যবইয়ের বাইরে এত বড় জ্ঞানভাণ্ডারের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হতে পেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।
শিক্ষার্থীদের অনেকেই নিজেদের পছন্দের বই নির্বাচন করে পড়ার পাশাপাশি গ্রন্থাগারের পরিবেশ, বই সংরক্ষণ ও পাঠের নিয়মকানুন সম্পর্কেও জানতে পারে। শিক্ষকরা এ সময় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা এবং জ্ঞান অর্জনে গ্রন্থাগারের ভূমিকা সম্পর্কে উৎসাহিত করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ কার্যক্রম একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ধারাবাহিকভাবে প্রতি সপ্তাহে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ে শ্রেণিশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ ও আগ্রহ অনুযায়ী বই পড়ার সুযোগ পাবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্প, ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে তাদের চিন্তাশক্তি ও জ্ঞানের পরিধি বাড়বে। একই সঙ্গে সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি ও মননশীলতা বিকাশেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষকরা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোরদের বইমুখী করা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। নিয়মিত গ্রন্থাগারমুখী করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও ব্যক্তিগত বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় শুরু হওয়া এ উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস তৈরির পাশাপাশি একটি জ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তোলার কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতামত