ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

বাকিতে সিগারেট না দেওয়ায় গলাচিপায় ব্যবসায়ী ও ইউপি সদস্যকে মারধরের অভিযোগ



বাকিতে সিগারেট না দেওয়ায় গলাচিপায় ব্যবসায়ী ও ইউপি সদস্যকে মারধরের অভিযোগ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় দোকানে বাকিতে সিগারেট দিতে রাজি না হওয়াকে কেন্দ্র করে এক চা-দোকানিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা এক ইউপি সদস্যকেও মারধর করা হয়। পরে স্বামীকে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হন ইউপি সদস্যের স্ত্রী। এ ঘটনায় আহত তিনজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের চর কপালবেড়া গ্রামের কপালবেড়া বাজার এলাকায় একটি মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. দুলাল খা (৫২), স্থানীয় চা-দোকানি ফিরোজ খা এবং ইউপি সদস্যের স্ত্রী হেনা বেগম। ইউপি সদস্য দুলাল খা চর কপালবেড়া গ্রামের বাদশা খার ছেলে। আহত ব্যবসায়ী ফিরোজ খা মৃত কাঞ্চন আলী খার ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে ফিরোজ খার চায়ের দোকানে গিয়ে কয়েকজন যুবক বাকিতে সিগারেট চান। দোকানি বাকিতে পণ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা ফিরোজ খাকে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ।

দোকানির চিৎকার শুনে পাশের এলাকা থেকে ইউপি সদস্য দুলাল খা সেখানে এগিয়ে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে দেখে হামলাকারীরা ফিরোজ খাকে ছেড়ে দিয়ে ইউপি সদস্যের ওপরও হামলা চালায়। এ সময় দুলাল খাকে মারধর করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে ইউপি সদস্যের স্ত্রী হেনা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামীকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। তখন তিনিও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

আহত ফিরোজ খা ও হেনা বেগমের অভিযোগ, হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের ভয়ে স্থানীয় অনেকেই বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না বলেও দাবি করেন তাঁরা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নোমান পারভেজ জানান, আহত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ইউপি সদস্য দুলাল খার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও কালশিটে দাগ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রুবেল খা ও মকবুল খার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মোল্লা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ ব্যবসায়ীর ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে একই ঘটনায় একজন জনপ্রতিনিধি, একজন ব্যবসায়ী ও তাঁর স্ত্রী আহত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাকিতে সিগারেট না দেওয়ায় গলাচিপায় ব্যবসায়ী ও ইউপি সদস্যকে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর গলাচিপায় দোকানে বাকিতে সিগারেট দিতে রাজি না হওয়াকে কেন্দ্র করে এক চা-দোকানিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা এক ইউপি সদস্যকেও মারধর করা হয়। পরে স্বামীকে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হন ইউপি সদস্যের স্ত্রী। এ ঘটনায় আহত তিনজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।


সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের চর কপালবেড়া গ্রামের কপালবেড়া বাজার এলাকায় একটি মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।


আহতরা হলেন চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. দুলাল খা (৫২), স্থানীয় চা-দোকানি ফিরোজ খা এবং ইউপি সদস্যের স্ত্রী হেনা বেগম। ইউপি সদস্য দুলাল খা চর কপালবেড়া গ্রামের বাদশা খার ছেলে। আহত ব্যবসায়ী ফিরোজ খা মৃত কাঞ্চন আলী খার ছেলে।


স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে ফিরোজ খার চায়ের দোকানে গিয়ে কয়েকজন যুবক বাকিতে সিগারেট চান। দোকানি বাকিতে পণ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা ফিরোজ খাকে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ।


দোকানির চিৎকার শুনে পাশের এলাকা থেকে ইউপি সদস্য দুলাল খা সেখানে এগিয়ে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁকে দেখে হামলাকারীরা ফিরোজ খাকে ছেড়ে দিয়ে ইউপি সদস্যের ওপরও হামলা চালায়। এ সময় দুলাল খাকে মারধর করা হয়।


ঘটনার খবর পেয়ে ইউপি সদস্যের স্ত্রী হেনা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামীকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। তখন তিনিও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।


আহত ফিরোজ খা ও হেনা বেগমের অভিযোগ, হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের ভয়ে স্থানীয় অনেকেই বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না বলেও দাবি করেন তাঁরা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নোমান পারভেজ জানান, আহত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ইউপি সদস্য দুলাল খার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও কালশিটে দাগ রয়েছে।


অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রুবেল খা ও মকবুল খার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।


চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মোল্লা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, “জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ ব্যবসায়ীর ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”


গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এদিকে একই ঘটনায় একজন জনপ্রতিনিধি, একজন ব্যবসায়ী ও তাঁর স্ত্রী আহত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হামলায় কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
বাকিতে সিগারেট না দেওয়ায় গলাচিপায় ব্যবসায়ী ও ইউপি সদস্যকে মারধরের অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x