আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের কালীবাড়ী গ্রামে মৃধাবাড়ী জামে মসজিদের নবনিযুক্ত ইমামকে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মুসল্লির বিরুদ্ধে। মসজিদের নতুন কমিটির উদ্যোগে ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। এ ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মসজিদের নতুন কমিটি গঠিত হয়। পরে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মো. মাইনুদ্দীনকে মৃধাবাড়ী জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে মসজিদের মুসল্লি মো. জামাল মৃধা আপত্তি জানান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইমাম মো. মাইনুদ্দীনের পথরোধ করে তাঁকে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. মস্তফা মৃধা বলেন, ইমাম মো. মাইনুদ্দীনের করা অভিযোগ সত্য। কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মসজিদের জমিদাতা আব্দুর রাজ্জাক মৃধা বলেন, বিদেশি দাতার অর্থায়নে মসজিদের তিনতলা ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার কথা বলে মসজিদের নামে তাঁর কাছ থেকে জমি নেওয়া হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে এবং বাকি অর্থের কোনো হিসাব তাঁদের দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। হিসাব চাইলে তাঁর সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে মসজিদকেন্দ্রিক বিরোধ নিরসনে মধ্যস্থতার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন আমতলী উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি মাওলানা মো. ওমর ফারুক জিহাদী। তিনি বলেন, দুই পক্ষের বিরোধের বিষয়ে মধ্যস্থতার জন্য তাঁকে মসজিদে ডাকা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত মুসল্লিদের প্রায় ৯০ শতাংশের মতামতের ভিত্তিতে বিদ্যমান কমিটি বহাল রেখে হাফেজ মাওলানা মাইনুদ্দীনকে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে ইমামের সঙ্গে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত অন্যায় ও গর্হিত কাজ। এ ঘটনার তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
অভিযোগের বিষয়ে মসজিদের ইমাম মো. মাইনুদ্দীন বলেন, ‘চাওড়া কালীবাড়ী গ্রামের মৃধাবাড়ী জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর শুক্রবার জুমার নামাজ পড়িয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। এ সময় মসজিদের মুসল্লি মো. জামাল মৃধা আমার পথরোধ করে গালাগাল করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।’
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামাল মৃধা। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, মসজিদ একটি ধর্মীয় ও শান্তিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সেখানে কমিটি বা ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত। বিরোধ দ্রুত নিরসনের পাশাপাশি মসজিদের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তাঁদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিরপেক্ষভাবে ঘটনার সমাধান করা হোক। একই সঙ্গে মসজিদকে কেন্দ্র করে যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
মতামত