সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগে পটুয়াখালীর বাউফলে আট জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে নৌ-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে বাউফল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ মাহমুদ বুলবুল। আদালত জাহিদুল ইসলামকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অন্য সাত জেলেকে ১৯ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য সাতজন হলেন আরিফ ফকির (২২), রমিজ প্যাদা (২৪), ইসমাইল খন্দকার (২৫), ফিরোজ হাওলাদার (৫০), করিব খন্দকার (৪০), ইলিয়াস ফকির (২৬) ও সোলায়মান সিকদার।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে তেঁতুলিয়া নদীর চন্দ্রদ্বীপ, কেশবপুর, ধুলিয়া ও মঠবাড়িয়া পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের অভিযোগে আট জেলেকে আটক করেন অভিযানে অংশ নেওয়া নৌ-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সদস্যরা। পরে তাঁদের উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেওয়া হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশের বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন রাখা এবং ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার নির্ধারিত সময়ে নদ-নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে উপকূলীয় বিভিন্ন নদ-নদীতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইলিশ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। এ সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রজনন সুরক্ষায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তাঁরা।
মতামত