পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে তদবির ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাই, তালিকা প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ডাকুয়া ইউনিয়নের উল্লিখিত ওয়ার্ডগুলোতে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেতে আবিদ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি তদবির চালাচ্ছেন। তাঁর প্রকৃত নাম মাহামুদুল হাসান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর চাচা ও ডাকুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য এবং সাবেক সার ডিলার তরিকুল ইসলাম মিঠুও এ পদের জন্য আবেদন করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া না যাওয়ায় এর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া আবেদনকারীদের তালিকায় নামের অবস্থান নির্ধারণে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগে তিন লাখ টাকা লেনদেনের কথা বলা হলেও এ দাবির পক্ষে কোনো নথি, লেনদেনের প্রমাণ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
স্থানীয় পর্যায়ে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিয়মনীতি, আবেদনকারীদের যোগ্যতা এবং তালিকা তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সরকারি সার কৃষকদের কাছে সুষ্ঠুভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষি উপকরণ বিতরণে অনিয়মের সুযোগ বন্ধ রাখতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বক্তব্য গ্রহণ করাও সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
ডাকুয়া ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সার ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, আবেদনকারীদের তালিকা এবং নিয়োগসংক্রান্ত সরকারি নীতিমালা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
সম্পাদনা নোট: এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগে আবিদ ও তরিকুল ইসলাম মিঠুর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া এবং সার ডিলার নিয়োগের আবেদন ও তালিকার নথি যাচাই করা প্রয়োজন। যাচাই ছাড়া কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ঘুষ বা রাজনৈতিক পুনর্বাসনের অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে প্রকাশ করা সমীচীন নয়।
মতামত