পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) একাডেমিক জ্ঞান ও শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরির লক্ষ্যে ওয়ার্কশপ ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কনফারেন্স হলে ‘Bridging Academia and Industry: Fostering Innovation, Collaboration and Mutual Development’ শীর্ষক এ কর্মসূচি শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইকবাল এবং পবিপ্রবির ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।
ওয়ার্কশপ ও সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সমন্বয়, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তারুণ্যের ভাবনা ও সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল পবিপ্রবি ও কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর। অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, রেফকো ফার্মাসিউটিক্যালস, খান ওয়াহাব শফিক রহমান অ্যান্ড কোম্পানি এবং প্রকৌশলী এম এ হক অ্যান্ড কোম্পানির সঙ্গে এ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সম্পাদনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জন, শিল্পখাতের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা লাভ এবং কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে বায়ার ক্রপ সায়েন্স, আজমত গ্রুপ, গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা, রেনাটা পিএলসি, সেভ দ্য চিলড্রেন, জাগো নারী, বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, কারিতাস বাংলাদেশ, কেমিন, রেনাটা অ্যানিমেল হেলথ, লালতীর সিড লিমিটেড, নেসলে বাংলাদেশ, অমৃত কনজুমার ফুড প্রোডাক্টস, রেফকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, এগ্রিপ্লাস এবং খান ওয়াহাব শফিক রহমান অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্প ও সমাজের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, পবিপ্রবিকে গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিল্পসম্পৃক্ততার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে উঠলে গবেষণার ফলাফল বাস্তবে প্রয়োগের পথ সুগম হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তর, নতুন উদ্ভাবন এবং পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পবিপ্রবির এ উদ্যোগ উচ্চশিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যে দূরত্ব কমানোর পাশাপাশি গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে উৎপাদন ও সেবামূলক কার্যক্রমে কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করবে। দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের অংশীদারত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিকাশ এবং দেশের শিল্পখাতের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মতামত