ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

প্রশাসনের টহলের মধ্যেই দুমকির নদীতে ইলিশ শিকার, প্রশ্ন নজরদারি নিয়ে



প্রশাসনের টহলের মধ্যেই দুমকির নদীতে ইলিশ শিকার, প্রশ্ন নজরদারি নিয়ে
প্রশাসনের টহলের মধ্যেই দুমকির নদীতে ইলিশ শিকার, প্রশ্ন নজরদারি নিয়ে

সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, চলছে প্রশাসনের টহলও। তারপরও পটুয়াখালীর দুমকির পায়রা নদীতে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুরে নদীর একটি অংশে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি মাছ ধরার নৌকা নিয়ে জেলেদের জাল ফেলতে দেখা যাওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে নজরদারি আরও জোরদার করা না হলে ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের হাজীর হাট ও রাজাগঞ্জ এলাকার মধ্যবর্তী পায়রা নদীতে এ দৃশ্য দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, একাধিক মাছ ধরার নৌকা নিয়ে জেলেরা নদীতে জাল ফেলছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষিদ্ধ সময়ে এভাবে মাছ শিকার চললেও তা বন্ধে পর্যাপ্ত কার্যকর নজরদারি দেখা যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পায়রা নদীর পাঙ্গাশিয়া, আলগী, লেবুখালী, আংগারিয়া, মুরাদিয়া ও লোহালিয়া এবং পাণ্ডব নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগ রয়েছে। এসব এলাকায় শক্তিশালী ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকা চলাচল করছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে নদীর সব পয়েন্টে একসঙ্গে নজরদারি চালানো কঠিন বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের টহল দল একটু আগেই ওই এলাকা ঘুরে এসেছে। আমাদের লোকবল সীমিত এবং মাত্র একটি টহল দল থাকায় সব জায়গায় সমানভাবে নজরদারি করা কঠিন হচ্ছে। তবে আমরা টহল দল বাড়ানোর চেষ্টা করছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “আমি আজ সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভায় ব্যস্ত আছি। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

এদিকে, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য সফল করতে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নির্বিচারে ধরা হলে ভবিষ্যতে নদীতে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে জেলে সম্প্রদায় ও ইলিশনির্ভর অর্থনীতিতেও।

পাঙ্গাশিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুক বলেন, “এভাবে নির্বিচারে মা ইলিশ ধরা হতে থাকলে অচিরেই আমাদের নদীগুলো ইলিশশূন্য হয়ে পড়বে। ভবিষ্যতে বাজারে ইলিশের সংকট দেখা দিতে পারে। তাই অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নদীতে নজরদারি বাড়াবে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেবে। মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান ও কার্যকর তদারকির বিকল্প নেই বলে মনে করছেন তাঁরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


প্রশাসনের টহলের মধ্যেই দুমকির নদীতে ইলিশ শিকার, প্রশ্ন নজরদারি নিয়ে

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, চলছে প্রশাসনের টহলও। তারপরও পটুয়াখালীর দুমকির পায়রা নদীতে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুরে নদীর একটি অংশে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি মাছ ধরার নৌকা নিয়ে জেলেদের জাল ফেলতে দেখা যাওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে নজরদারি আরও জোরদার করা না হলে ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের হাজীর হাট ও রাজাগঞ্জ এলাকার মধ্যবর্তী পায়রা নদীতে এ দৃশ্য দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, একাধিক মাছ ধরার নৌকা নিয়ে জেলেরা নদীতে জাল ফেলছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষিদ্ধ সময়ে এভাবে মাছ শিকার চললেও তা বন্ধে পর্যাপ্ত কার্যকর নজরদারি দেখা যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পায়রা নদীর পাঙ্গাশিয়া, আলগী, লেবুখালী, আংগারিয়া, মুরাদিয়া ও লোহালিয়া এবং পাণ্ডব নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগ রয়েছে। এসব এলাকায় শক্তিশালী ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার নৌকা চলাচল করছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে নদীর সব পয়েন্টে একসঙ্গে নজরদারি চালানো কঠিন বলে জানিয়েছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের টহল দল একটু আগেই ওই এলাকা ঘুরে এসেছে। আমাদের লোকবল সীমিত এবং মাত্র একটি টহল দল থাকায় সব জায়গায় সমানভাবে নজরদারি করা কঠিন হচ্ছে। তবে আমরা টহল দল বাড়ানোর চেষ্টা করছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “আমি আজ সকাল থেকেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভায় ব্যস্ত আছি। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

এদিকে, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য সফল করতে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নির্বিচারে ধরা হলে ভবিষ্যতে নদীতে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে জেলে সম্প্রদায় ও ইলিশনির্ভর অর্থনীতিতেও।

পাঙ্গাশিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুক বলেন, “এভাবে নির্বিচারে মা ইলিশ ধরা হতে থাকলে অচিরেই আমাদের নদীগুলো ইলিশশূন্য হয়ে পড়বে। ভবিষ্যতে বাজারে ইলিশের সংকট দেখা দিতে পারে। তাই অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নদীতে নজরদারি বাড়াবে এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেবে। মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান ও কার্যকর তদারকির বিকল্প নেই বলে মনে করছেন তাঁরা।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রশাসনের টহলের মধ্যেই দুমকির নদীতে ইলিশ শিকার, প্রশ্ন নজরদারি নিয়ে
0:00 0:00
1.0x