রক্তের অভাবে সিজারিয়ান অপারেশন থমকে থাকা এক প্রসূতি মায়ের পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছে ভোলা জেলা পুলিশ। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর দ্রুত রক্তের ব্যবস্থা করে দেওয়ায় সময়মতো ওই প্রসূতি মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।
ভোলা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ভোলা’-এ রক্তের অভাবে এক প্রসূতি মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন আটকে থাকার খবর প্রকাশিত হয়। সংবাদটি ভোলা জেলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, পিপিএম (বার)-এর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় রক্তের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেন।
পুলিশ সুপারের উদ্যোগে ভোলা জেলা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল রায়হান তালুকদার স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসেন। তাঁর রক্তদানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রক্তের ব্যবস্থা হওয়ায় প্রসূতি মায়ের অস্ত্রোপচার আর বিলম্বিত হয়নি। পরবর্তীতে সময়মতো তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার কনস্টেবল রায়হান তালুকদারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং সংকটময় মুহূর্তে স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসার জন্য তাঁর মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
এদিকে রক্তদাতা কনস্টেবল রায়হান তালুকদার ও ভোলা জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রসূতি মায়ের পরিবারের সদস্যরা। তাদের কাছে সংকটের সময়ে পাওয়া এ সহায়তা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভোলা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছেন।
একজন পুলিশ সদস্যের স্বেচ্ছায় রক্তদানের এই উদ্যোগ শুধু একজন প্রসূতি মায়ের চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই সহায়তা করেনি, বরং সংকটের সময়ে মানবিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্তও তৈরি করেছে। জরুরি প্রয়োজনে রক্তদানে সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
জরুরি রক্তের প্রয়োজনে যোগাযোগ:
কন্ট্রোল রুম, জেলা পুলিশ, ভোলা
মোবাইল: +৮৮০ ১৩২০-১৫৩০৯৮
সূত্র: পুলিশ মিডিয়া সেল, ভোলা।
মতামত