নিষেধাজ্ঞা শুরুর পরদিনই পটুয়াখালীর গলাচিপায় নদীতে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা হয়েছে চন্দনা মাছ। জব্দকৃত মাছ পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নদীতে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরও মাছ আহরণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নিষেধাজ্ঞার পরদিন গলাচিপায় অভিযান পরিচালনা করে চন্দনা মাছ জব্দ করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নদীতে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারসহ জলজ সম্পদের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ সময় নদীতে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হলে মাছের প্রজনন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে এবং ভবিষ্যতে নদীতে মাছের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়াতে তা ভূমিকা রাখে।
তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ আহরণ করা হলে একদিকে যেমন সরকারি বিধিনিষেধের লঙ্ঘন ঘটে, অন্যদিকে নদীর মৎস্যসম্পদের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও জনসচেতনতা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযানে জব্দ করা চন্দনা মাছ নষ্ট না করে বিভিন্ন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে একদিকে জব্দকৃত মাছের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের জন্য তা উপকারে আসবে।
স্থানীয়ভাবে নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পাশাপাশি জেলেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জেলেদের অবহিত করা এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হলে এর সুফল আরও বাড়তে পারে।
গলাচিপার নদ-নদীতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জেলে, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিষেধাজ্ঞার সময় সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে নদীর মাছের প্রজনন ও মৎস্যসম্পদের স্থায়িত্ব রক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
নিষেধাজ্ঞার পরদিনই চন্দনা মাছ জব্দের ঘটনায় প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে। একই সঙ্গে জব্দকৃত মাছ বিভিন্ন মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার উদ্যোগ সামাজিকভাবেও প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মতামত