পটুয়াখালীর উপকূলীয় দুই বৃহৎ মৎস্য বন্দর মহিপুর ও আলীপুরে দীর্ঘদিন ধরে ইলিশের তীব্র সংকট চলছে। কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা যখন লোকসান সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, ঠিক তখনই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নতুন করে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। জেলেদের ভাষায়, এই মূল্যবৃদ্ধি তাঁদের জন্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’।
সম্প্রতি লিটারপ্রতি ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এতে উপকূলীয় এলাকার জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাগরে মাছ ধরতে ট্রলারের প্রধান ব্যয়ের একটি অংশ জ্বালানি তেল। তেলের দাম বাড়ায় প্রতিটি ট্রলারের সমুদ্রযাত্রার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে মাছ পরিবহন, বরফ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যয়ও বাড়বে। দীর্ঘদিন ধরে ইলিশের সংকট ও লোকসানের কারণে ঋণের চাপে থাকা জেলেদের জন্য বাড়তি এই ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বাড়লে এর প্রভাব পুরো মৎস্য সরবরাহব্যবস্থায় পড়বে। এতে মাছের সংগ্রহ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আর্থিক ঝুঁকিও বাড়বে। দীর্ঘস্থায়ী সংকট তৈরি হলে অনেক জেলে বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তনের দিকে যেতে পারেন বলেও তাঁরা মনে করছেন।
মহিপুর ও আলীপুরের জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলেন, একদিকে ইলিশের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ও আহরণ না থাকায় আয় কমেছে, অন্যদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে মাছ ধরার খরচ বেড়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকে থাকাই তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাঁরা উপকূলীয় মৎস্য খাতের সংকট বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় পর্যায়ে কমানোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখতে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
মতামত