পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ফারহানা ইয়াসমিন শীলার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় প্রধান আসামি তাঁর স্বামী রাসেল মাহমুদ বয়াতীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের করা সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন আগামী ৯ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রাঙ্গাবালী চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দোলন হাসানের আদালতে রাসেল মাহমুদ বয়াতীকে হাজির করা হলে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন তাঁর মক্কেলের জামিন প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহজাদা ও অ্যাডভোকেট সৈয়দ রায়হানসহ পাঁচজন আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও যুক্তি পর্যালোচনা শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। পাশাপাশি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাঙ্গাবালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এসএম সামিউল আলমের করা সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য ৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। পরে আসামিকে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ রায়হান বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। আসামির জামিনের বিরোধিতা করে আদালতে প্রয়োজনীয় যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন এবং রিমান্ড আবেদনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন জানান, তাঁর মক্কেলের জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত আবেদনটি গ্রহণ করেননি। আগামী ৯ নভেম্বর রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এসএম সামিউল আলম বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের স্বার্থে প্রধান আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত শুনানির জন্য নির্ধারিত তারিখ দিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ধলেশ্বরী টোল প্লাজা এলাকা থেকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১০-এর সদস্যরা রাসেল মাহমুদ বয়াতীকে গ্রেপ্তার করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের বাহেরচর বাজার এলাকার নিজ বসতঘর থেকে ফারহানা ইয়াসমিন শীলার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা রাঙ্গাবালী থানার সামনে বিক্ষোভ করেন।
এরপর নিহত শীলার ভাই রাইসুল ইসলাম কমল বাদী হয়ে তাঁর স্বামী রাসেল মাহমুদ বয়াতী, চাচাতো দেবর সোহান বয়াতীসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের এক দিনের মাথায় ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে প্রধান আসামি রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলেও রিমান্ডের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী ৯ নভেম্বরের শুনানিতে জানা যাবে। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।
মতামত