সৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বসানো হলো ডাস্টবিন ও সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড
পর্যটনশিল্পের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবেশ সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড ও ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে পরিবেশ অধিদপ্তর, পটুয়াখালীর সহকারী পরিচালক লোভানা জামিলের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোন, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক), স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ধুমকেতু’, উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা), অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী এবং ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এতে প্রায় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।
সকালে সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্ব ও পশ্চিম দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সৈকতের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি পর্যটক ও স্থানীয়দের সচেতন করতে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার সুবিধার্থে ডাস্টবিন বসানো হয়।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পর্যটক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। যত্রতত্র ময়লা না ফেলে নির্ধারিত ডাস্টবিন ব্যবহারের আহ্বান জানান আয়োজকরা।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, কুয়াকাটাকে পরিচ্ছন্ন ও পর্যটকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পৌরসভার পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ কার্যক্রম সফল করতে শুধু পৌরসভার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পর্যটক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
টোয়াকের সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, কুয়াকাটা দেশের পর্যটনশিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সৈকত অপরিচ্ছন্ন থাকলে পর্যটকদের কাছে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। তাই পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি পর্যটকদেরও সচেতন করতে হবে।
কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব নেছার উদ্দিন হাওলাদার বলেন, পরিচ্ছন্ন কুয়াকাটা গড়ে তুলতে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। এটি এক দিনের কোনো কর্মসূচি নয়; বরং নিয়মিত সৈকত পরিষ্কার রাখা এবং নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
এ সময় কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পর্যটকদের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা গেলে কুয়াকাটাকে আরও পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
মতামত