দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বর্তমানে কিছুটা সংকট রয়েছে। তবে এ পরিস্থিতিকে মাত্র ছয় মাসের বর্তমান সরকারের সৃষ্টি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন নীতি ও ব্যবস্থাপনার প্রভাবের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো সংকটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। ভুল পথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে এর ক্ষতিকর প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে। তাই বর্তমান সময়ে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দল—সব পক্ষকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা কিংবা মতামত প্রকাশের সুযোগ থাকা জরুরি। গঠনমূলক সমালোচনা সরকারকে আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। তবে এমন কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত নয়, যার কারণে দেশের অর্থনীতি, জনজীবন কিংবা সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্নীতি প্রতিরোধে বিশেষ উদ্যোগ
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে নুরুল হক নুর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল-মত নির্বিশেষে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।
সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে এর প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবতা যাচাই-বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
তিনি জানান, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্যতা ও বাস্তবায়নের বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
‘রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়’
দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি দেশের দীর্ঘদিনের সমস্যা অল্প সময়ের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব না হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে আগামী পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন ও জনসেবার মান আরও উন্নত করে একটি শক্তিশালী ও মানসম্মত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। এজন্য সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।
নুরুল হক নুর আরও বলেন, শুধু বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করাই উন্নয়নের একমাত্র মাপকাঠি নয়। সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা কতটা সহজে পাচ্ছেন, তাঁদের জীবনযাত্রায় কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা জবাবদিহির মধ্যে থাকছে—এসব বিষয়ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং মানুষের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মতামত