নিয়মিত অফিস না করা ও সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগ; তদন্তের আশ্বাস জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেলিম রেজার বিরুদ্ধে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকা, সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তিতে ফেলা এবং এক সাংবাদিকের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সেবাপ্রার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মির্জাগঞ্জে কর্মস্থল হলেও নির্বাচন কর্মকর্তা সেলিম রেজা বরিশাল শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন। ফলে সকাল ৯টায় অফিস কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অনেক দিন তাকে দুপুর ১২টার দিকে অফিসে আসতে দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এতে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংশোধন, ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা নিতে আসা মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা। কেউ কেউ দিনের পর দিন অফিসে ঘুরেও প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
সম্প্রতি সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে গেলে জাতীয় দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ ও স্থানীয় দৈনিক সাথী পত্রিকার প্রতিনিধি সাংবাদিক জিয়াউর রহমানের সঙ্গে নির্বাচন কর্মকর্তা সেলিম রেজা অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিক জিয়াউর রহমান বলেন, সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি ও অন্যান্য বিষয়ে তথ্য জানতে তিনি নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে যান। বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে কর্মকর্তা তার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং অসদাচরণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, এর আগেও ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে একসময় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল বলেও সূত্রটি দাবি করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, নির্বাচনী কাজে বিভিন্ন স্থানে ব্যস্ত থাকায় সব সময় নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হতে পারেননি। এ কারণে সাংবাদিকসহ অনেকে তাকে না পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিকের সঙ্গে কিছুটা কথা-কাটাকাটি হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি আর বাড়াতে চান না বলে জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাপ্রার্থী বলেন, নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়মিত অফিসে না থাকায় তাদের কাজ আটকে যাচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে এসে অনেক সময় কাজ না করেই ফিরে যেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান মুন্সী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। তবে বিষয়টি জানার পর ভিডিওসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন গণমাধ্যমকর্মী বা সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে কোনো সরকারি কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণ করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে অনিয়ম ও সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তির অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মতামত