বৈষম্যহীন সমাজ গঠন ও সাইবার সচেতনতায় তরুণদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, ডিজিটাল নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থী ও ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশের সদস্যসহ ৪০ জন তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সেমিনার কক্ষে ‘ইনক্লুসিভ ইন্টারেক্টিভ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ডিসকাশনস’ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইকুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায় ‘ফর দ্য লাইট’-এর আয়োজনে জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট কর্মশালাটির উদ্যোগ গ্রহণ করে। এতে সহযোগিতা করে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করে নেদারল্যান্ডস সরকার।
কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর এস. এম. সোহান ও অর্পিতা দাস অথই। তাঁরা জেন্ডার সমতা, নারীর অধিকার, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ আচরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রচলিত নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির বিস্তারের এই সময়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা অর্জনও জরুরি।
কর্মশালায় অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা, সাইবার হয়রানি প্রতিরোধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং ডিজিটাল পরিসরে নিরাপদ থাকার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে অনলাইনে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে অন্যের প্রতি আচরণের ক্ষেত্রে সচেতন থাকার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মশালার বিভিন্ন পর্বে অংশগ্রহণকারীরা দলীয় আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সমাজে বিদ্যমান জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করেন। পাশাপাশি এসব সমস্যা মোকাবিলায় তরুণদের করণীয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন তাঁরা।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, তরুণদের জ্ঞান, সচেতনতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক বৈষম্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের শুধু সচেতন নাগরিক হিসেবেই গড়ে তুলবে না, বরং নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রাখতেও উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকেরা।
মতামত