ঢাকা    সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

৯ বিয়ের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’: আদালতে জামিন পেলেন মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ



৯ বিয়ের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’: আদালতে জামিন পেলেন মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ

৯টি বিয়ে ও যৌতুক দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন প্রখ্যাত ইসলামী আলোচক, লেখক ও ৩১৩ কোম্পানির চেয়ারম্যান মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ। রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

আইনি লড়াইয়ে জামিন পাওয়ার পর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগকে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দাবি করেছেন মুফতী মিছবাহ। তিনি জানান, একটি বিশেষ চক্র তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই অসত্য মামলাটি সাজিয়েছে।

মামলা সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন হুমায়রা জান্নাত ওরফে নাঈমা। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মুফতী মিছবাহ তাঁকে কাবিন রেজিস্ট্রি ছাড়া বিয়ে করেন এবং তিনি তাঁর পঞ্চম স্ত্রী। এতে আরও বলা হয়, আসামি মোট ৯টি বিয়ে করেছেন। এ ছাড়া গত ১০ আগস্ট রাতে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীতে তাঁকে মারধর করে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করার অভিযোগও আনা হয়।

তবে আদালতে উপস্থাপিত তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজের উদ্ধৃতি দিয়ে মুফতী মিছবাহ এসব দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান, ২০২১ সালের ২৯ মে যথাযথ কাবিন রেজিস্ট্রি সম্পাদন করেই তাঁদের বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। আদালতের কাছে বিবাহ নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় নথি ও পাসপোর্ট উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে নাঈমার স্বামী হিসেবে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং ওই পাসপোর্টে তাঁরা একসঙ্গে একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণও করেছেন।

অভিযোগের অসঙ্গতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বাদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছয়টি বিয়ে, আইনি নোটিশে দ্বিতীয় স্ত্রী এবং মামলায় ৯টি বিয়ের কথা উল্লেখ করেছেন—যা পরষ্পরবিরোধী। ১০ আগস্টের কথিত ঘটনার সময়ে তিনি অফিসে উপস্থিত ছিলেন না বলে সিসিটিভি ফুটেজ প্রমাণের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি মামলার অন্যতম প্রধান অভিযোগস্থলের ভবনটি ২০২৪ সালে নির্মিত হলেও ২০২০ সালে সেখানে শ্লীলতাহানির কথা বলা হয়েছে, যা কালানুক্রমিকভাবে অসম্ভব।

ঘটনার সত্যতা বিষয়ে বাদীর নিজ পরিবার থেকেও ভিন্ন বক্তব্য এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, নাঈমার মা, খালা ও মামা ভিডিও বার্তায় মামলাটিকে ভিত্তিহীন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

মুফতী মিছবাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই অপপ্রচারের ফলে তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং তাঁর দেড় বছর বয়সী শিশুসন্তান আফরাদ বিন মিছবাহর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তিনি প্রশাসনের সার্বিক সহায়তা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


৯ বিয়ের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’: আদালতে জামিন পেলেন মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

৯টি বিয়ে ও যৌতুক দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন প্রখ্যাত ইসলামী আলোচক, লেখক ও ৩১৩ কোম্পানির চেয়ারম্যান মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ। রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।


আইনি লড়াইয়ে জামিন পাওয়ার পর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগকে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দাবি করেছেন মুফতী মিছবাহ। তিনি জানান, একটি বিশেষ চক্র তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এই অসত্য মামলাটি সাজিয়েছে।

মামলা সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন হুমায়রা জান্নাত ওরফে নাঈমা। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মুফতী মিছবাহ তাঁকে কাবিন রেজিস্ট্রি ছাড়া বিয়ে করেন এবং তিনি তাঁর পঞ্চম স্ত্রী। এতে আরও বলা হয়, আসামি মোট ৯টি বিয়ে করেছেন। এ ছাড়া গত ১০ আগস্ট রাতে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালীতে তাঁকে মারধর করে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করার অভিযোগও আনা হয়।

তবে আদালতে উপস্থাপিত তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজের উদ্ধৃতি দিয়ে মুফতী মিছবাহ এসব দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান, ২০২১ সালের ২৯ মে যথাযথ কাবিন রেজিস্ট্রি সম্পাদন করেই তাঁদের বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। আদালতের কাছে বিবাহ নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় নথি ও পাসপোর্ট উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে নাঈমার স্বামী হিসেবে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং ওই পাসপোর্টে তাঁরা একসঙ্গে একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণও করেছেন।

অভিযোগের অসঙ্গতি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বাদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছয়টি বিয়ে, আইনি নোটিশে দ্বিতীয় স্ত্রী এবং মামলায় ৯টি বিয়ের কথা উল্লেখ করেছেন—যা পরষ্পরবিরোধী। ১০ আগস্টের কথিত ঘটনার সময়ে তিনি অফিসে উপস্থিত ছিলেন না বলে সিসিটিভি ফুটেজ প্রমাণের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি মামলার অন্যতম প্রধান অভিযোগস্থলের ভবনটি ২০২৪ সালে নির্মিত হলেও ২০২০ সালে সেখানে শ্লীলতাহানির কথা বলা হয়েছে, যা কালানুক্রমিকভাবে অসম্ভব।

ঘটনার সত্যতা বিষয়ে বাদীর নিজ পরিবার থেকেও ভিন্ন বক্তব্য এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, নাঈমার মা, খালা ও মামা ভিডিও বার্তায় মামলাটিকে ভিত্তিহীন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

মুফতী মিছবাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই অপপ্রচারের ফলে তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং তাঁর দেড় বছর বয়সী শিশুসন্তান আফরাদ বিন মিছবাহর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তিনি প্রশাসনের সার্বিক সহায়তা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৯ বিয়ের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’: আদালতে জামিন পেলেন মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ
0:00 0:00
1.0x