ঢাকা    সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

প্রাথমিকের চূড়ান্ত সুপারিশ থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের পুনঃভেরিফিকেশনের দাবি ইউটিএলের


প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

প্রাথমিকের চূড়ান্ত সুপারিশ থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের পুনঃভেরিফিকেশনের দাবি ইউটিএলের

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অভিযোগে বাদ পড়া প্রার্থীদের পুনরায় যাচাই করে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।

শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে ইউটিএলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. যুবাঈর মুহাম্মদ এহসান এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, বাদ পড়া প্রার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে মেধার ভিত্তিতে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এরপর ভেরিফিকেশনের সময় তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়ে থাকলে, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এর আইনগত ভিত্তি প্রকাশ করা প্রয়োজন।

ইউটিএল নেতারা বলেন, সরকারি চাকরির ভেরিফিকেশন কোনোভাবেই রাজনৈতিক মতাদর্শ যাচাই, হয়রানি কিংবা বৈষম্যের মাধ্যম হতে পারে না। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অপরাধ বা আইনগত অযোগ্যতার প্রমাণ না থাকলে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত বিশ্বাস কিংবা সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্যের ভিত্তিতে তাকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।

তারা আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। অতীতে গোপন প্রতিবেদন বা রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে নাগরিকদের চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার যে অভিযোগ রয়েছে, ভবিষ্যতে এমন প্রক্রিয়া যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত কোনো প্রার্থীর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ওই প্রতিবেদনের আইনগত ভিত্তি ও যৌক্তিকতা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে জানানো এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। ইউটিএল নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার নয়; বরং যোগ্যতা, মেধা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

ইউটিএল অবিলম্বে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে বাদ পড়া চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের প্রতিবেদন পুনঃপর্যালোচনা, তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন এবং প্রয়োজন হলে পুনঃতদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনটির নেতাদের মতে, ভেরিফিকেশনের নামে যদি রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক বিবেচনায় প্রার্থীদের বাছাই করা হয়, তাহলে তা বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রাথমিকের চূড়ান্ত সুপারিশ থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের পুনঃভেরিফিকেশনের দাবি ইউটিএলের

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অভিযোগে বাদ পড়া প্রার্থীদের পুনরায় যাচাই করে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।


শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে ইউটিএলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. যুবাঈর মুহাম্মদ এহসান এ দাবি জানান।


বিবৃতিতে তারা বলেন, বাদ পড়া প্রার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে মেধার ভিত্তিতে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এরপর ভেরিফিকেশনের সময় তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়ে থাকলে, প্রত্যেকের ক্ষেত্রে বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এর আইনগত ভিত্তি প্রকাশ করা প্রয়োজন।


ইউটিএল নেতারা বলেন, সরকারি চাকরির ভেরিফিকেশন কোনোভাবেই রাজনৈতিক মতাদর্শ যাচাই, হয়রানি কিংবা বৈষম্যের মাধ্যম হতে পারে না। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অপরাধ বা আইনগত অযোগ্যতার প্রমাণ না থাকলে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত বিশ্বাস কিংবা সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্যের ভিত্তিতে তাকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।


তারা আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। অতীতে গোপন প্রতিবেদন বা রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে নাগরিকদের চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার যে অভিযোগ রয়েছে, ভবিষ্যতে এমন প্রক্রিয়া যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।


বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত কোনো প্রার্থীর নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ওই প্রতিবেদনের আইনগত ভিত্তি ও যৌক্তিকতা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে জানানো এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের যথাযথ সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।


এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। ইউটিএল নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার নয়; বরং যোগ্যতা, মেধা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।


ইউটিএল অবিলম্বে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে বাদ পড়া চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের প্রতিবেদন পুনঃপর্যালোচনা, তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন এবং প্রয়োজন হলে পুনঃতদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনটির নেতাদের মতে, ভেরিফিকেশনের নামে যদি রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক বিবেচনায় প্রার্থীদের বাছাই করা হয়, তাহলে তা বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রাথমিকের চূড়ান্ত সুপারিশ থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের পুনঃভেরিফিকেশনের দাবি ইউটিএলের
0:00 0:00
1.0x