পটুয়াখালীর বাউফলে ইয়াবা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা আড়ালে রেখে নগদ টাকা ও মালামাল ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে থানায় অভিযোগ করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তদন্তে মূল রহস্য উদঘাটনের পর অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত-দুজনকেই গ্রেপ্তার করেছে বাউফল থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরপুর গ্রামের খলিল মাঝির ছেলে মো. নিজাম মাঝি (৩৫) এবং বাউফল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জালাল চৌকিদারের ছেলে মো. সাইমুন চৌকিদার (৩২)।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের গ্রেপ্তার করে পটুয়াখালী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নগদ টাকা ও মালামাল ছিনতাই হয়েছে দাবি করে সাইমুনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন নিজাম মাঝি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সাইমুনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজাম মাঝি স্বর্ণ বন্ধক রেখে ১০০ পিস ইয়াবা কিনে আনেন। এর মধ্যে ৫০ পিস একজনকে দেওয়ার পর বাকি ৫০ পিস নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটকে ইয়াবাগুলো ছিনিয়ে নেন। পরে তারা ছিনিয়ে নেওয়া ইয়াবা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন। এ ঘটনায় সাইমুনও জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ জানতে পারে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সাইমুন জানান, তিনি ছিনিয়ে নেওয়া ইয়াবা থেকে ছয় পিস পেয়েছিলেন। পরে তার কাছ থেকে দুই পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ইয়াবা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে নিজাম মাঝি নগদ টাকা ও মালামাল ছিনতাই হয়েছে দাবি করে থানায় অভিযোগ করেন। তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়ে।
এ ঘটনায় মাদক পরিবহন ও ইয়াবা-সংক্রান্ত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিজাম, সাইমুনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা ছিনতাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করি। পরে ইয়াবা নিয়ে দ্বন্দ্বের তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছে। ঘটনার সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলমান রয়েছে।”
মতামত