ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

কুয়াকাটার অরকা পল্লীর ৬৫ জেলে পরিবার পাচ্ছেন নতুন ঘর



কুয়াকাটার অরকা পল্লীর ৬৫ জেলে পরিবার পাচ্ছেন নতুন ঘর
কুয়াকাটার অরকা পল্লীর ৬৫ জেলে পরিবার পাচ্ছেন নতুন ঘর

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের অরকা পল্লীর ৬৫টি জেলে পরিবার পাচ্ছেন নতুন ঘর। দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণশীর্ণ ও ভাঙাচোরা ঘরে বসবাস করা এসব পরিবার নতুন ঘর পেয়ে আনন্দিত। প্রতিটি পরিবারের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ১৮ ফুট × ১৪ ফুট আয়তনের ঘর। পাশাপাশি প্রতিটি ঘরের সঙ্গে রাখা হয়েছে একটি করে স্যানিটারি টয়লেট।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অরকা পল্লীর ঘরগুলো সংস্কার না হওয়ায় সেগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে অনেক সময় ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ত। জরাজীর্ণ ঘরে শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করতে গিয়ে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হতো তাদের। নতুন ঘর পেয়ে সেই দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন পল্লীর বাসিন্দারা।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে গৃহহীন ৮০টি জেলে পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণ করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয় রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ওল্ড রাজশাহী ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশন (অরকা)’। ওই সময় নির্মিত ঘরগুলোতে জেলে পরিবারগুলো বসবাস শুরু করে। সংগঠনটির নাম অনুসারেই পল্লীটির নামকরণ করা হয় ‘অরকা পল্লী’।

ঘর নির্মাণের পর দীর্ঘ ১৯ বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার না হওয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ ঘর জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। টিনের চাল ও বেড়া নষ্ট হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন স্থানে ঘরের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছিলেন পল্লীর বাসিন্দারা।

এ অবস্থায় অরকা পল্লীর অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে ‘সোওয়াব ফাউন্ডেশন’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বর্তমানে ৬৫টি পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ঘরগুলো মাটি থেকে প্রায় তিন ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের সঙ্গে রাখা হয়েছে স্যানিটারি টয়লেটের ব্যবস্থা।

ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, অরকা পল্লীর বাসিন্দাদের দুর্দশার বিষয়টি সোওয়াব ফাউন্ডেশনের পটুয়াখালী জেলার ভলান্টিয়ার মো. জাহিদুল ইসলামের নজরে আসে। তিনি পল্লীর মানুষের দুর্ভোগ সরেজমিনে দেখে বিষয়টি ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার মো. লোকমান হোসাইন তালুকদারের কাছে তুলে ধরেন। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করে ফাউন্ডেশনের কাছে পাঠানো হয়।

এরপর সোওয়াব ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিনিধি দল অরকা পল্লী সরেজমিনে পরিদর্শন করে। পল্লীর মানুষের জীবনযাপন, ঘরের অবস্থা ও প্রয়োজনীয়তা যাচাই-বাছাই শেষে বর্তমানে বসবাসরত ৬৫টি পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় তিন মাস আগে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ তিন মাসের নিরলস প্রচেষ্টায় বর্তমানে অধিকাংশ ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবারের কাছে নতুন ঘরের চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরগুলো উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছে ফাউন্ডেশন।

নতুন ঘর পাওয়া পল্লীর বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে বসবাস করেছি। বৃষ্টি ও বন্যার সময় ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে যেত। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে ওই ঘরে থাকা খুবই কষ্টকর ছিল। নতুন ঘর পেয়ে আমরা খুব আনন্দিত। এখন অন্তত নিরাপদে পরিবার নিয়ে থাকতে পারব।’

পল্লীর ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিম জানায়, আগের ঘরটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। বৃষ্টি হলে পড়াশোনা করতেও সমস্যা হতো। নতুন ঘরে এখন পড়াশোনার ভালো পরিবেশ তৈরি হবে। নতুন ঘর পেয়ে সে ও পল্লীর অন্য বাসিন্দারা আনন্দিত।

অরকা পল্লী সমিতির সভাপতি ও জেলে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সোওয়াব ফাউন্ডেশনের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাতে ঘুমাতেও দুশ্চিন্তা হতো। ঘরের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে কখন কী হয়, সেই ভয় থাকত। এখন স্যানিটারি টয়লেটসহ ভালো ঘর পেয়েছি। এতে আমাদের অনেক দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে।’

সোওয়াব ফাউন্ডেশনের পটুয়াখালী জেলার ভলান্টিয়ার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে অরকা পল্লীর মানুষের দুর্দশার কথা জানতে পারেন তিনি। পরে পল্লীটি পরিদর্শন করে বাসিন্দাদের সমস্যাগুলো সরেজমিনে দেখেন। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করে ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার মো. লোকমান হোসাইন তালুকদারের কাছে পাঠানো হয়। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল অরকা পল্লী পরিদর্শন করে অসহায় পরিবারগুলোর জন্য নতুন ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে অধিকাংশ পরিবারকে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই বাকি পরিবারগুলোকেও নতুন ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

সোওয়াব ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার মো. লোকমান হোসাইন তালুকদার বলেন, স্থানীয় ভলান্টিয়ার মো. জাহিদুল ইসলামের মাধ্যমে অরকা পল্লীর মানুষের দুর্দশার কথা জানতে পারেন তারা। পরে প্রতিনিধি দল সরেজমিনে পরিদর্শন করে ৬৫টি পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিটি ঘরের আয়তন ১৮ ফুট × ১৪ ফুট। ঘরগুলো মাটি থেকে প্রায় তিন ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের সঙ্গে একটি করে স্যানিটারি টয়লেটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা আনন্দিত। ঘর নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরগুলো উদ্বোধন করা হবে। ভবিষ্যতেও উপকূলীয় অঞ্চলের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে সোওয়াব ফাউন্ডেশন কাজ করে যাবে।’

নতুন ঘর পাওয়ায় অরকা পল্লীর ৬৫টি জেলে পরিবারের মধ্যে এখন স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের অবসান ঘটিয়ে নতুন ঘরে নিরাপদ জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখছেন এসব উপকূলীয় পরিবারের সদস্যরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কুয়াকাটার অরকা পল্লীর ৬৫ জেলে পরিবার পাচ্ছেন নতুন ঘর

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের অরকা পল্লীর ৬৫টি জেলে পরিবার পাচ্ছেন নতুন ঘর। দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণশীর্ণ ও ভাঙাচোরা ঘরে বসবাস করা এসব পরিবার নতুন ঘর পেয়ে আনন্দিত। প্রতিটি পরিবারের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ১৮ ফুট × ১৪ ফুট আয়তনের ঘর। পাশাপাশি প্রতিটি ঘরের সঙ্গে রাখা হয়েছে একটি করে স্যানিটারি টয়লেট।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অরকা পল্লীর ঘরগুলো সংস্কার না হওয়ায় সেগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে অনেক সময় ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ত। জরাজীর্ণ ঘরে শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করতে গিয়ে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হতো তাদের। নতুন ঘর পেয়ে সেই দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন পল্লীর বাসিন্দারা।


জানা গেছে, ২০০৮ সালে গৃহহীন ৮০টি জেলে পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণ করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয় রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ওল্ড রাজশাহী ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশন (অরকা)’। ওই সময় নির্মিত ঘরগুলোতে জেলে পরিবারগুলো বসবাস শুরু করে। সংগঠনটির নাম অনুসারেই পল্লীটির নামকরণ করা হয় ‘অরকা পল্লী’।


ঘর নির্মাণের পর দীর্ঘ ১৯ বছরে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার না হওয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ ঘর জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। টিনের চাল ও বেড়া নষ্ট হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন স্থানে ঘরের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছিলেন পল্লীর বাসিন্দারা।


এ অবস্থায় অরকা পল্লীর অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে ‘সোওয়াব ফাউন্ডেশন’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বর্তমানে ৬৫টি পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ঘরগুলো মাটি থেকে প্রায় তিন ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের সঙ্গে রাখা হয়েছে স্যানিটারি টয়লেটের ব্যবস্থা।


ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, অরকা পল্লীর বাসিন্দাদের দুর্দশার বিষয়টি সোওয়াব ফাউন্ডেশনের পটুয়াখালী জেলার ভলান্টিয়ার মো. জাহিদুল ইসলামের নজরে আসে। তিনি পল্লীর মানুষের দুর্ভোগ সরেজমিনে দেখে বিষয়টি ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার মো. লোকমান হোসাইন তালুকদারের কাছে তুলে ধরেন। পরে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করে ফাউন্ডেশনের কাছে পাঠানো হয়।


এরপর সোওয়াব ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিনিধি দল অরকা পল্লী সরেজমিনে পরিদর্শন করে। পল্লীর মানুষের জীবনযাপন, ঘরের অবস্থা ও প্রয়োজনীয়তা যাচাই-বাছাই শেষে বর্তমানে বসবাসরত ৬৫টি পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় তিন মাস আগে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ তিন মাসের নিরলস প্রচেষ্টায় বর্তমানে অধিকাংশ ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবারের কাছে নতুন ঘরের চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরগুলো উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছে ফাউন্ডেশন।


নতুন ঘর পাওয়া পল্লীর বাসিন্দা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে বসবাস করেছি। বৃষ্টি ও বন্যার সময় ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে যেত। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে ওই ঘরে থাকা খুবই কষ্টকর ছিল। নতুন ঘর পেয়ে আমরা খুব আনন্দিত। এখন অন্তত নিরাপদে পরিবার নিয়ে থাকতে পারব।’


পল্লীর ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিম জানায়, আগের ঘরটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। বৃষ্টি হলে পড়াশোনা করতেও সমস্যা হতো। নতুন ঘরে এখন পড়াশোনার ভালো পরিবেশ তৈরি হবে। নতুন ঘর পেয়ে সে ও পল্লীর অন্য বাসিন্দারা আনন্দিত।


অরকা পল্লী সমিতির সভাপতি ও জেলে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সোওয়াব ফাউন্ডেশনের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাতে ঘুমাতেও দুশ্চিন্তা হতো। ঘরের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে কখন কী হয়, সেই ভয় থাকত। এখন স্যানিটারি টয়লেটসহ ভালো ঘর পেয়েছি। এতে আমাদের অনেক দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে।’


সোওয়াব ফাউন্ডেশনের পটুয়াখালী জেলার ভলান্টিয়ার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে অরকা পল্লীর মানুষের দুর্দশার কথা জানতে পারেন তিনি। পরে পল্লীটি পরিদর্শন করে বাসিন্দাদের সমস্যাগুলো সরেজমিনে দেখেন। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করে ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার মো. লোকমান হোসাইন তালুকদারের কাছে পাঠানো হয়। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল অরকা পল্লী পরিদর্শন করে অসহায় পরিবারগুলোর জন্য নতুন ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে অধিকাংশ পরিবারকে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই বাকি পরিবারগুলোকেও নতুন ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে।


সোওয়াব ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার মো. লোকমান হোসাইন তালুকদার বলেন, স্থানীয় ভলান্টিয়ার মো. জাহিদুল ইসলামের মাধ্যমে অরকা পল্লীর মানুষের দুর্দশার কথা জানতে পারেন তারা। পরে প্রতিনিধি দল সরেজমিনে পরিদর্শন করে ৬৫টি পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিটি ঘরের আয়তন ১৮ ফুট × ১৪ ফুট। ঘরগুলো মাটি থেকে প্রায় তিন ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরের সঙ্গে একটি করে স্যানিটারি টয়লেটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, ‘অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা আনন্দিত। ঘর নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরগুলো উদ্বোধন করা হবে। ভবিষ্যতেও উপকূলীয় অঞ্চলের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে সোওয়াব ফাউন্ডেশন কাজ করে যাবে।’


নতুন ঘর পাওয়ায় অরকা পল্লীর ৬৫টি জেলে পরিবারের মধ্যে এখন স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের অবসান ঘটিয়ে নতুন ঘরে নিরাপদ জীবনযাপনের স্বপ্ন দেখছেন এসব উপকূলীয় পরিবারের সদস্যরা।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
কুয়াকাটার অরকা পল্লীর ৬৫ জেলে পরিবার পাচ্ছেন নতুন ঘর
0:00 0:00
1.0x