পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার রোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর অভিযান পরিচালনা এবং মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। এ দাবিতে ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পানপট্টি ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকদের পক্ষে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াদ হোসেন স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্মারকলিপিতে পানপট্টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মাদকের অবাধ বিস্তার রোধ করা না গেলে এর নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে তরুণ ও যুবসমাজের ওপর। একই সঙ্গে পারিবারিক শান্তি, সামাজিক শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি
স্মারকলিপিতে ইউনিয়নের মাদকপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মাদক বিক্রি, সরবরাহ ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তদন্তের মাধ্যমে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া মাদকের আড্ডা ও অবৈধ সরবরাহ বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার দাবিও জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, বিচ্ছিন্নভাবে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাদকের উৎস, সরবরাহব্যবস্থা ও বিক্রয়কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এলাকায় মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
তরুণদের নিয়ে উদ্বেগ
সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে দেওয়া স্মারকলিপিতে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণ ও যুবসমাজকে রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। এতে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাদকবিরোধী জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়; মাদক প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদেরও সম্পৃক্ত করতে হবে। তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান
স্মারকলিপিতে পানপট্টি ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার রোধের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কর্মকর্তাদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ারও দাবি জানানো হয়।
সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পানপট্টি ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম একসঙ্গে চালু রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, স্মারকলিপির অনুলিপি গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং পানপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছেও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন পানপট্টি ইউনিয়নের সচেতন নাগরিকরা।
মতামত