নিরাপদ ও আধুনিক ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আসছে হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান
দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটাকে নিরাপদ, আধুনিক ও ডিজিটাল লেনদেনবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ‘ক্যাশলেস কুয়াকাটা’ কর্মসূচি। পর্যটকদের নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমানো এবং দ্রুত, নিরাপদ ও স্বচ্ছ ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় কুয়াকাটা প্রেস ক্লাব মাঠে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র কলাপাড়া শাখার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মোশাহেদ উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক, বরিশালের নির্বাহী পরিচালক মো. মফিজউর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, পরিচালক প্রদীপ রঞ্জন দেবনাথ এবং অতিরিক্ত পরিচালক মো. মাহমুদুর রহমান।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মতিউর রহমান, কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি মো. জাহিরুল ইসলাম মিরন, পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র কলাপাড়া শাখার ব্যবস্থাপক মো. কাজী রেজাউল ইসলাম রিয়াদ এবং আলীপুর উপশাখার ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল করিমসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ডিজিটাল লেনদেনে গুরুত্ব
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. মফিজউর রহমান খান বলেন, ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তারের মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর আর্থিক লেনদেন আরও সহজ, নিরাপদ, স্বচ্ছ ও আধুনিক করা সম্ভব। কুয়াকাটায় আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য ক্যাশলেস পেমেন্ট ব্যবস্থা সহজলভ্য করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল, রেস্টুরেন্ট, দোকানপাট ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কিউআর কোড, কার্ডসহ বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হলে পর্যটকদের সঙ্গে নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে লেনদেনে সময় সাশ্রয় হবে এবং আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়বে।
তাদের মতে, ‘ক্যাশলেস কুয়াকাটা’ শুধু একটি ব্যাংকিং কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কুয়াকাটাকে আধুনিক, স্মার্ট ও ডিজিটাল পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নে ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যবসায়ী সমাজ, পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
বাড়বে ডিজিটাল আর্থিক সেবা
অনুষ্ঠানে কুয়াকাটায় ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করা এবং ক্যাশলেস লেনদেনকে জনপ্রিয় করে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কুয়াকাটায় ডিজিটাল আর্থিক সেবা ও ক্যাশলেস লেনদেনের প্রসারে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। পর্যায়ক্রমে আরও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ব্যাংকটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, কুয়াকাটায় ক্যাশলেস লেনদেনের পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে পর্যটকদের জন্য আরও নিরাপদ ও আধুনিক আর্থিক সেবার পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করা হবে। একই সঙ্গে কুয়াকাটাকে একটি নিরাপদ ও স্মার্ট পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মতামত