ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

সংস্কারের ছয় মাসেই বেহাল আমতলী-তালতলী সড়ক



সংস্কারের ছয় মাসেই বেহাল আমতলী-তালতলী সড়ক

বরগুনার আমতলী-তালতলী আঞ্চলিক সড়কটি সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ভাঙন, পিচ উঠে যাওয়া ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের এমন বেহাল দশায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে আমতলী ও তালতলী উপজেলার হাজারো মানুষকে। বৃষ্টি হলে সড়কের গর্তে পানি জমে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবির পর সড়কটির উন্নয়নকাজ করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন অংশের পিচ উঠে গেছে। কোথাও তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত, আবার কোথাও সড়কের কিনার ভেঙে গেছে। এতে বাস, মাহিন্দ্রা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে বিড়ম্বনা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, আমতলী ও তালতলী উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সড়কটির গুরুত্ব অনেক। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে দুই উপজেলার মানুষ উপজেলা সদর, বরগুনা জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতেও এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।

সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত তৈরি হওয়ায় যানবাহন চালকদেরও বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে ও বৃষ্টির সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। গর্তে পানি জমে থাকার কারণে অনেক সময় সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সহজে বোঝা যায় না। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

তাদের অভিযোগ, সংস্কারের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি কাজের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান বজায় রাখা এবং কাজ চলাকালে যথাযথ নজরদারি নিশ্চিত করা না হলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও দীর্ঘস্থায়ী সুফল পাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, সড়কটি সংস্কারের পর তারা আশা করেছিলেন দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে। কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গর্ত তৈরি হওয়ায় সেই প্রত্যাশা অনেকটাই ভেস্তে গেছে। এখন ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত মেরামত না করলে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু গর্তে ইট-পাথর বা সাময়িকভাবে বিটুমিন দিয়ে মেরামত না করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো প্রকৌশলগতভাবে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সড়ক সংস্কারে ব্যবহৃত উপকরণের মান, কাজের স্থায়িত্ব এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যথাযথভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তারা আরও বলেন, আমতলী-তালতলী সড়কটি শুধু দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এই সড়কের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও জড়িত। ফলে সড়কটি দীর্ঘদিন চলাচলের উপযোগী রাখতে টেকসই সংস্কার প্রয়োজন।

এদিকে, সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত চিহ্নিত করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংস্কারকাজে যাতে একই ধরনের সমস্যা না হয়, সে জন্য কাজের প্রতিটি ধাপে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দুই উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে আমতলী-তালতলী সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো টেকসইভাবে সংস্কার করা হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। তাদের মতে, জনগণের অর্থে পরিচালিত উন্নয়নকাজের সুফল নিশ্চিত করতে হলে শুধু কাজ শেষ করাই নয়, কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাও জরুরি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সংস্কারের ছয় মাসেই বেহাল আমতলী-তালতলী সড়ক

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বরগুনার আমতলী-তালতলী আঞ্চলিক সড়কটি সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ভাঙন, পিচ উঠে যাওয়া ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের এমন বেহাল দশায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে আমতলী ও তালতলী উপজেলার হাজারো মানুষকে। বৃষ্টি হলে সড়কের গর্তে পানি জমে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবির পর সড়কটির উন্নয়নকাজ করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন অংশের পিচ উঠে গেছে। কোথাও তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত, আবার কোথাও সড়কের কিনার ভেঙে গেছে। এতে বাস, মাহিন্দ্রা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে বিড়ম্বনা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, আমতলী ও তালতলী উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সড়কটির গুরুত্ব অনেক। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে দুই উপজেলার মানুষ উপজেলা সদর, বরগুনা জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতেও এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।

সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত তৈরি হওয়ায় যানবাহন চালকদেরও বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে ও বৃষ্টির সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। গর্তে পানি জমে থাকার কারণে অনেক সময় সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সহজে বোঝা যায় না। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

তাদের অভিযোগ, সংস্কারের পর অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি কাজের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান বজায় রাখা এবং কাজ চলাকালে যথাযথ নজরদারি নিশ্চিত করা না হলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও দীর্ঘস্থায়ী সুফল পাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, সড়কটি সংস্কারের পর তারা আশা করেছিলেন দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে। কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গর্ত তৈরি হওয়ায় সেই প্রত্যাশা অনেকটাই ভেস্তে গেছে। এখন ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত মেরামত না করলে বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু গর্তে ইট-পাথর বা সাময়িকভাবে বিটুমিন দিয়ে মেরামত না করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো প্রকৌশলগতভাবে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সড়ক সংস্কারে ব্যবহৃত উপকরণের মান, কাজের স্থায়িত্ব এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যথাযথভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তারা আরও বলেন, আমতলী-তালতলী সড়কটি শুধু দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এই সড়কের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও জড়িত। ফলে সড়কটি দীর্ঘদিন চলাচলের উপযোগী রাখতে টেকসই সংস্কার প্রয়োজন।

এদিকে, সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দ্রুত চিহ্নিত করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংস্কারকাজে যাতে একই ধরনের সমস্যা না হয়, সে জন্য কাজের প্রতিটি ধাপে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দুই উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে আমতলী-তালতলী সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো টেকসইভাবে সংস্কার করা হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। তাদের মতে, জনগণের অর্থে পরিচালিত উন্নয়নকাজের সুফল নিশ্চিত করতে হলে শুধু কাজ শেষ করাই নয়, কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাও জরুরি।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সংস্কারের ছয় মাসেই বেহাল আমতলী-তালতলী সড়ক
0:00 0:00
1.0x