বরগুনার তালতলী উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে মো. শহিদুল হককে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা আলোচনায় রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ী ও জেলেদের হয়রানি, মাছের ঘের ও জমি দখল, বাজার ইজারায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ ও ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা কয়েকজন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, শহিদুল হককে ঘিরে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরনের অসন্তোষ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ আপত্তি জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে দলীয় পর্যায়ে তদন্ত ও সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও জেলের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় তাদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। কেউ কেউ চাঁদা দাবি কিংবা অর্থ আদায়ের অভিযোগও তুলেছেন। একইভাবে মাছের ঘের ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধে শহিদুল হকের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া স্থানীয় বাজারের ইজারা নিয়েও তাঁর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, নির্ধারিত অর্থের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার বিষয়ে তারা বিভিন্ন সময়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেও স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে তাদের দাবি।
শহিদুল হককে ঘিরে বিরোধ শুধু স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মাঠপর্যায়ে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগকারীদের আরও বক্তব্য, রাজনৈতিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও স্থানীয় মানুষের স্বার্থের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে শহিদুল হকের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য বা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। স্থানীয় পর্যায়ে চলমান বিরোধের পেছনে রাজনৈতিক মতপার্থক্য, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব ও বিভিন্ন স্থানীয় স্বার্থ জড়িত কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে তালতলী বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিনের এই বিরোধ দ্রুত নিরসন না হলে এর প্রভাব দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে পড়তে পারে। তারা কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের হস্তক্ষেপে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের নিরপেক্ষ পর্যালোচনা এবং আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের সমাধান চান।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে ব্যক্তিগত বিরোধ বা পারস্পরিক অভিযোগ যেন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সে জন্য দলীয় শৃঙ্খলা ও আইনগত প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মতামত