যে নদীতে একসময় ভিটেমাটির আনন্দ জড়িয়ে ছিল, সেই নদীই কেড়ে নিয়েছে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের হাজারো বাসিন্দাদের শেষ সম্বল। সর্বনাশা নদীভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে এখন পুরোপুরি নিঃস্ব ভুতুমিয়া বাজার সংলগ্ন জাফর মিয়ার পরিবারটি।
ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা জাফর মিয়া কোনোমতে রাস্তার পাড়ে অন্যের জমিতে একটি টিনের খুপরি ঘর তুলে আশ্রয় নিয়েছেন। জীর্ণ সেই টিনের ঘরে ছোট ছোট সন্তানদের আঁকড়ে ধরে স্ত্রীসহ দিন পার করছেন তিনি। ছবিতে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে তাদের চোখে-মুখে নেমে আসা অনিশ্চয়তা আর চাপা হাহাকার। ঘরের সাজানো সংসার আজ হারিয়ে গেছে নদীর তলদেশে, রয়ে গেছে শুধু বেঁচে থাকার আকুতি।
নিজস্ব জমি হারিয়ে রাস্তার পাশে একটি অস্থায়ী টিনের ছাপরায় গাদাগাদি করে বসবাস করছে চার থেকে পাঁচ সদস্যের পরিবারটি।
আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ছোট ছোট বাচ্চাদের মুখে ঠিকমতো খাবার তুলে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তীব্র আবহাওয়া ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে শিশুরা ভুগছে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।
নদীভাঙনের পর কোনো তাৎক্ষণিক সরকারি বা বেসরকারি বড় ধরনের সহায়তা না পাওয়ায় পরিবারটি চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এলাকায় নদীভাঙন রোধে স্থায়ী জিওবাগ বা বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হলে প্রতি বছরই একের পর এক পরিবার এমন সবকিছু হারাবে।
জাফর মিয়ার মতো নিস্ব পরিবারের জন্য দ্রুত জরুরি খাদ্য সহায়তা, উপযুক্ত আবাসন এবং স্থায়ী পুনর্বাসন একান্ত প্রয়োজন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপই পারে এ পরিবারটিকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাতে।
মতামত