বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লোহালিয়া, সিংহরকাঠি ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনে একের পর এক বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এমনকি স্বজনদের কবরস্থানও রক্ষা পাচ্ছে না ভাঙনের কবল থেকে। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের শিকার হলেও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা।
নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে নিজের বসতভিটা বিলীন হওয়ার দৃশ্য দেখছেন ৭০ বছর বয়সী ফুলবানু বেগম। তার ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই নদীর ভয়াবহ ভাঙন দেখে আসছেন তিনি। প্রায় চার দশক ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করলেও নদীপাড়ের মানুষের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে সরকার ও জনপ্রতিনিধি পরিবর্তন হলেও নদীভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। নির্বাচনের সময় নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের আনাগোনা দেখা গেলেও ভোটের পর নদীপাড়ের মানুষের খোঁজখবর নেওয়ার মতো কেউ থাকে না বলে অভিযোগ তাদের।
শুধু ফুলবানু বেগম নন, নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হালিমাও। স্বামীর রেখে যাওয়া শেষ সম্বলটুকু নিয়ে কোনোভাবে দিন কাটাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভাঙনে তার বসতভিটার একটি বড় অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ভাঙনের হাত থেকে কবরস্থানও রক্ষা করা যাচ্ছে না। একের পর এক কবর নদীতে বিলীন হওয়ায় পূর্বপুরুষদের স্মৃতিচিহ্ন হারাচ্ছেন তারা। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কও বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, নদীর তীরবর্তী এলাকায় কয়েক শতাধিক পরিবার বসবাস করে। ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা এসব পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতিনিয়ত ঘরবাড়ি ও শেষ সম্বল হারানোর আশঙ্কায় থাকতে হচ্ছে তাদের।
নদীভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ভাঙনের বিষয়টি উল্লেখ করে ঢাকায় প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করা হবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত তাদের খোঁজ নিতে কেউ আসেননি। এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, তারা আর আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। নদীভাঙন থেকে বসতভিটা, ফসলি জমি ও কবরস্থান রক্ষায় তারা টেকসই বাঁধ নির্মাণসহ কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ চান।
তাদের দাবি, দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও বহু পরিবার ঘরবাড়ি ও শেষ সম্বল হারাতে পারে। তাই ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মতামত