ঢাকা    সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

কলাপাড়ায় আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের পরও জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ



কলাপাড়ায় আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের পরও জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ
কলাপাড়ায় আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের পরও জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আদালতের স্থিতাবস্থা (Status Quo) আদেশ থাকা একটি বিরোধপূর্ণ জমিতে পুনরায় দুটি টিনের স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে জমির মালিক দাবিদার মো. মজিবুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মজিবুর রহমানের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাঁর চাচি ফাতেমা বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা সত্ত্বেও বিরোধীয় জমিতে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা বেগম জানান, কলাপাড়া উপজেলার ইছবপুর মৌজার জে.এল. নং-২৭-এর বি.এস. দাগ নং-৩৭২ ও ৮১৬ এবং খতিয়ান নং-১২৯, ২৩০৩ ও ২০৭-এর অন্তর্ভুক্ত ১ দশমিক ২৫ একর জমি নিয়ে কলাপাড়া সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হলে গত ২২ জুলাই আদালত উভয় পক্ষকে বিরোধীয় জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই আদেশের পরও মো. ইমরান হাওলাদার, হানিফ, ইব্রাহিমসহ কয়েকজন এবং তাঁদের সহযোগীরা জমিতে প্রবেশ করে টিন ও কাঠ ব্যবহার করে পাটাতন নির্মাণের পাশাপাশি দুটি ঘর তৈরি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফাতেমা বেগমের ভাষ্য, বিরোধটি স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। এর পর আবারও জমিতে স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ, ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

এদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আরও ১০ জনকে আসামি করে একটি চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই মামলার আসামি মাহাতাব মাওলানা ও শাহীন মীর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে মামলাটিকে ‘মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই তাঁদের মামলায় জড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে বিরোধীয় জমিতে নির্মিত দুটি ঘর মহিপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সম্প্রতি সেখানে আবারও দুটি টিনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব স্থাপনা নির্মাণে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার সহযোগিতা ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে স্থাপনা নির্মাণের পেছনে বিএনপির কোনো ইন্ধন রয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও মজিবুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে অসন্তোষ জানানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন এবং আদালত বিরোধীয় জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছে। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় জমিতে ঘর তোলার চেষ্টা করা হলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।

আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের পরও জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি মামলা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগকে ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতের আদেশ যথাযথভাবে কার্যকর, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬


কলাপাড়ায় আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের পরও জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আদালতের স্থিতাবস্থা (Status Quo) আদেশ থাকা একটি বিরোধপূর্ণ জমিতে পুনরায় দুটি টিনের স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে জমির মালিক দাবিদার মো. মজিবুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মজিবুর রহমানের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাঁর চাচি ফাতেমা বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশনা বহাল থাকা সত্ত্বেও বিরোধীয় জমিতে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা বেগম জানান, কলাপাড়া উপজেলার ইছবপুর মৌজার জে.এল. নং-২৭-এর বি.এস. দাগ নং-৩৭২ ও ৮১৬ এবং খতিয়ান নং-১২৯, ২৩০৩ ও ২০৭-এর অন্তর্ভুক্ত ১ দশমিক ২৫ একর জমি নিয়ে কলাপাড়া সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হলে গত ২২ জুলাই আদালত উভয় পক্ষকে বিরোধীয় জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই আদেশের পরও মো. ইমরান হাওলাদার, হানিফ, ইব্রাহিমসহ কয়েকজন এবং তাঁদের সহযোগীরা জমিতে প্রবেশ করে টিন ও কাঠ ব্যবহার করে পাটাতন নির্মাণের পাশাপাশি দুটি ঘর তৈরি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফাতেমা বেগমের ভাষ্য, বিরোধটি স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। এর পর আবারও জমিতে স্থাপনা নির্মাণের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ, ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

এদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আরও ১০ জনকে আসামি করে একটি চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই মামলার আসামি মাহাতাব মাওলানা ও শাহীন মীর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে মামলাটিকে ‘মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই তাঁদের মামলায় জড়ানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে বিরোধীয় জমিতে নির্মিত দুটি ঘর মহিপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সম্প্রতি সেখানে আবারও দুটি টিনের স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এসব স্থাপনা নির্মাণে স্থানীয় বিএনপির এক নেতার সহযোগিতা ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজ বলেন, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তবে স্থাপনা নির্মাণের পেছনে বিএনপির কোনো ইন্ধন রয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও মজিবুর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে অসন্তোষ জানানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন এবং আদালত বিরোধীয় জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছে। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় জমিতে ঘর তোলার চেষ্টা করা হলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।

আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের পরও জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি মামলা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগকে ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতের আদেশ যথাযথভাবে কার্যকর, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
কলাপাড়ায় আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশের পরও জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x