জাতীয় সম্পদ ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করা ও উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে পটুয়াখালীর বাউফলে শুরু হয়েছে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমকে সামনে রেখে তেঁতুলিয়া নদীসহ উপজেলার নদী ও উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শুরু হওয়া এ বিশেষ অভিযান চলবে আগামী ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। ২৩ আশ্বিন থেকে ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত মোট ২২ দিন দেশব্যাপী একযোগে মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
অভিযানকে সফল করতে বাউফল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার যৌথ ব্যবস্থাপনায় নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদী থেকে যেকোনো ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে মাছ পরিবহন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় ও বাজারজাতকরণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মূলত মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতেই এ সময় নদী ও উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকারী মৎস্য কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো ২২ দিন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে জাল ফেললে, মাছ ধরার চেষ্টা করলে কিংবা নিষিদ্ধ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হলে তার বিরুদ্ধে মৎস্য আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আওতায় জেল-জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। এর প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তাই শুধু প্রশাসনের অভিযান নয়, জেলে সম্প্রদায়সহ নদীনির্ভর জনগোষ্ঠীর সচেতন সহযোগিতাও এ কার্যক্রম সফল করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের নদীতে না যাওয়ার পাশাপাশি মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত, কেনাবেচা ও বাজারজাতকরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের কোনো ঘটনা নজরে এলে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য বাউফলবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখা এবং মা ইলিশকে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ কারণে ২২ দিনের এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে বাউফলের নদী ও উপকূলীয় এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
মতামত