পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর পেটে লাথি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে। এ সময় ওই নারীর স্বামী ও বাবাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই নারীর গর্ভপাত হয়। পরে চিকিৎসাধীন নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার চাকামাইয়া ইউনিয়নের মুন্সী বাড়ি স্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নারীর নাম তানিয়া বেগম (২৫)। তিনি উপজেলার বেতমোর গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় তার স্বামী হাবিব পাহলান (৪৫) ও বাবা দুলাল হাওলাদার (৫৫)ও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে হাবিব পাহলান অটোরিকশাযোগে স্ত্রী তানিয়া ও শ্বশুর দুলাল হাওলাদারকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে মুন্সী বাড়ি স্ট্যান্ডসংলগ্ন সড়কে কয়েকজন যুবক দাঁড়িয়ে থাকায় অটোরিকশা চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। এ সময় তাদের সরে দাঁড়াতে বলাকে কেন্দ্র করে হাবিবের সঙ্গে সোহাগ (২০), মামুন (২৩) ও শাওন সিকদারের (২২) কথা-কাটাকাটি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে ওই তিন যুবক হাবিব ও দুলালকে মারধর করেন। স্বামী ও বাবাকে রক্ষা করতে তানিয়া এগিয়ে গেলে তাকে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে পেটে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাদের দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে আটকে রাখারও অভিযোগ রয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশের সময় তানিয়ার গর্ভপাত ঘটে। নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও সময়মতো নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. এহসান বলেন, পেটে আঘাতের কারণে ওই নারীর রক্তক্ষরণ হয়ে গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে। নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছিল। তবে সময়মতো নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তানিয়া বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোহাগ, মামুন ও শাওন সিকদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত