পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মঙ্গলসুখ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুস সাকিব খান কনার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি (EiE)’ বা অস্থায়ী গৃহ নির্মাণ খাতে বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ করা তিন লাখ টাকা নির্ধারিত উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় না করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার ও আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের স্লিপ ফান্ডের অর্থের ব্যবহার, বিভিন্ন পরীক্ষার ফি এবং ছুটির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা করে নিজের পছন্দের শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রাইভেট ও কোচিং কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্ট অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১৫ জুলাই একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থেকেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজের উপস্থিতি বোঝাতে ভুয়া ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন প্রধান শিক্ষক। বিষয়টি নিয়েও অভিভাবকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক সোনিয়া ও ইসরাত জাহান অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষকের আচরণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে প্রত্যাশিত নয়। তাঁদের দাবি, শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের নাম সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে না পারলেও তাদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তাঁর কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করার অভিযোগও করেন তাঁরা।
তাঁদের আরও অভিযোগ, যারা প্রধান শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে, তাদের পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পড়ানো হয়। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক নাজমুস সাকিব খান কনার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুদ করিম বলেন, ‘আমরাও এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে বিদ্যালয়ের আর্থিক স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের প্রত্যাশা, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
মতামত