কলেজছাত্র মনিরুলকে মারধর, নির্যাতন ও এক লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান সাকিবের পক্ষ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের দাবি, মনিরুলের কাছ থেকে টাকা ও মুঠোফোন নেওয়ার ঘটনায় সাকিব জড়িত নন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
গত ৭ অক্টোবর পটুয়াখালীতে দায়ের করা ওই মামলায় সাকিবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলাটি ঘিরে ভুক্তভোগী মনিরুলের অভিযোগের বিপরীতে সাকিবের পরিবার ও এলাকাবাসীর বক্তব্য সামনে এসেছে। তবে দুই পক্ষের বক্তব্যে ঘটনার বিবরণে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত ৪ অক্টোবর গভীর রাতে সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের বসাক বাজার এলাকায় এক কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মনিরুল। ওই কিশোরী সাকিবের ভাতিজি বলে দাবি তাদের। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন মনিরুলকে আটক করেন। পরে উত্তেজিত লোকজন তাকে মারধর করেন বলে জানিয়েছেন তারা। তবে টাকা আদায়, মুঠোফোন নেওয়া কিংবা মুক্তিপণের অভিযোগ মানতে নারাজ স্থানীয়দের কয়েকজন।
মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা হারুন প্যাদা বলেন, ঘটনার রাতে মনিরুল ওই এলাকায় একটি মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। পরে খবর পেয়ে সাকিবসহ অন্যরা সেখানে যান। হারুনের দাবি, মনিরুলের কাছ থেকে কোনো টাকা বা মুঠোফোন নেওয়া হয়নি। সাকিবের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
একই এলাকার বাসিন্দা মজিবর মাদবর জানান, ডাকাডাকির শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সাকিবকেও তারা ডেকে নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মনিরুল নিজের ভুল স্বীকার করে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানোর পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল হাওলাদার বলেন, সাকিবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে মনে করেন তিনি। তার দাবি, সাকিব কোনো টাকা নেননি। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি।
সাকিবের পরিবারের সদস্যরাও একই দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে দায়ী না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা প্রয়োজন।
মনিরুলের অভিযোগ কী
মামলার অভিযোগ ও মনিরুলের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর রাতে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের বসাক বাজার এলাকা থেকে তাকে তুলে নিয়ে একটি নির্জন স্থানে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে মারধর ও নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তার ব্যবহৃত Samsung S25 Ultra মুঠোফোন নিয়ে নেওয়ার অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মনিরুলের দাবি, পরে তার পরিবারের কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা মামলায় সাকিবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের আগে সাকিব অবশ্য অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, মনিরুলকে তারা মারধর করেননি এবং তার কাছ থেকে কোনো টাকা বা মুঠোফোনও নেওয়া হয়নি। তার বক্তব্য ছিল, গভীর রাতে প্রতিবেশীর মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসার পর স্থানীয় উত্তেজিত লোকজন মনিরুলকে মারধর করেন।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কলেজছাত্র নির্যাতনের মামলায় সাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্তের বক্তব্য এবং স্থানীয়দের দাবির মধ্যে পার্থক্য থাকায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের বিষয়টি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
মতামত