পটুয়াখালীর দশমিনায় অবৈধভাবে সার মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে মো. কামাল হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বেতাগী বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কামাল হোসেনের দোকান থেকে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা ৭ থেকে ৮ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মো. কামাল হোসেন ওই ইউনিয়নের মো. কাজেম আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সারের ডিলার হিসেবে পরিচয় দিয়ে সার বিক্রি করে আসছিলেন। পাশাপাশি কৃষি ফসলের বিভিন্ন ধরনের কীটনাশকও বিক্রি করতেন। তবে এসব পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র ছিল না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেতাগী বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা। অভিযানের সময় কামাল হোসেনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে মজুদ করা কয়েক বস্তা সার পাওয়া যায়।
পরে অবৈধভাবে সার মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবসায়ী মো. কামাল হোসেনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেতাগী সানকিপুর বাজারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ব্যবসায়ী মো. কামাল হোসেনের দোকান থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ৭ থেকে ৮ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের জন্য নির্ধারিত সার যাতে অবৈধভাবে মজুদ বা বিক্রি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুদ ও বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সার সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। অবৈধভাবে সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অনুমোদন ছাড়া সার বিক্রির চেষ্টা করা হলে কৃষক পর্যায়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই নিয়মিত বাজার তদারকি ও প্রশাসনিক অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
মতামত