ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পটুয়াখালীর দুমকিতে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি বন্ধে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় দুমকি উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী।
সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান, দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম উদ্দিন, প্রেসক্লাব দুমকির সভাপতি জসিম উদ্দিন সুমন, বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে নিষিদ্ধ সময়ে নদ-নদীতে ইলিশ শিকার বন্ধ, জেলেদের সচেতন করা এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মাছ আহরণ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এ সময় নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ আহরণের পাশাপাশি অবৈধভাবে আহরিত মাছ পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
সভায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জেলে ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য ও মা ইলিশ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জেলেদের অবহিত করার মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে নদী ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করার বিষয়ে সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে কার্যকরভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা গেলে মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়াতে তা ভূমিকা রাখবে। এ জন্য সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে জেলে ও মৎস্যজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
মতামত