একটি সুন্দর ও ব্যবহারযোগ্য খেলার মাঠ শুধু বিদ্যালয়ের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই উপলব্ধি থেকেই নিজেদের বিদ্যালয়ের মাঠকে উপযোগী করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে ডাক্তারের হাট হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়ের মাঠে বালু ভরাটের কাজের প্রস্তুতি হিসেবে শিক্ষার্থীরাই মাঠের চারপাশে বাউন্ডারি তৈরির কাজে অংশ নিচ্ছে। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে নিজেদের শ্রম ও সময়কে কাজে লাগিয়ে তারা এগিয়ে নিচ্ছে এ উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের এমন সম্মিলিত প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
শিক্ষার্থীদের এ উদ্যোগের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো—কাজটিকে তারা কেবল বিদ্যালয়ের একটি সাধারণ সংস্কারকাজ হিসেবে দেখছে না; বরং নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসার জায়গা থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে। দলবদ্ধভাবে কাজ করার মধ্য দিয়ে তারা একে অন্যকে সহযোগিতা, নেতৃত্ব, দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এবং সম্মিলিতভাবে একটি লক্ষ্য অর্জনের বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করছে।
‘ছোট ছোট টিমওয়ার্ক বড় একটি ভালো কাজে রূপ দেয়’—শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ যেন তারই বাস্তব উদাহরণ। প্রত্যেকের সামান্য শ্রম ও সহযোগিতা একত্রিত হলে একটি বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব—এমন একটি ইতিবাচক বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছে তাদের এ কার্যক্রম।
বিদ্যালয়ের মাঠে বালু ভরাটের আগে চারপাশে বাউন্ডারি তৈরির কাজটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের উৎসাহ ও ঐক্যের পরিবেশ তৈরি করেছে। নিজেদের বিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর ও শিক্ষাবান্ধব করতে শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজে তাদের সম্পৃক্ত হওয়ার পথ তৈরি করতে পারে।
শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ শুধু একটি মাঠ প্রস্তুতের কাজ নয়, বরং শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের মূল্যবোধ চর্চারও একটি দৃষ্টান্ত। সহযোগিতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও স্বেচ্ছাশ্রমের মতো গুণগুলো বইয়ের পাতায় পড়ার পাশাপাশি বাস্তব কাজের মধ্য দিয়ে অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে তারা।
শিক্ষার্থীদের এমন সম্মিলিত উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, বিদ্যালয়ের মাঠটি সুন্দর ও ব্যবহার উপযোগী হলে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে আরও উৎসাহের সঙ্গে অংশ নিতে পারবে।
ডাক্তারের হাট হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে, বড় পরিবর্তনের জন্য সবসময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। কখনো কখনো ছোট ছোট উদ্যোগ, কয়েকজনের আন্তরিকতা এবং দলবদ্ধ প্রচেষ্টাই একটি বড় ভালো কাজের সূচনা করতে পারে। নিজেদের বিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের এমন দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও ভালো কাজে উৎসাহিত করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
মতামত