ঢাকা    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

৪৫ বছর পর প্রাণ ফিরল স্বনির্ভর খালে, স্বস্তি ফিরেছে কলাপাড়ার কৃষকদের



৪৫ বছর পর প্রাণ ফিরল স্বনির্ভর খালে, স্বস্তি ফিরেছে কলাপাড়ার কৃষকদের
৪৫ বছর পর প্রাণ ফিরল স্বনির্ভর খালে, স্বস্তি ফিরেছে কলাপাড়ার কৃষকদের

দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছর পর পুনঃখননের মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত স্বনির্ভর খাল। হাড়িপাড়া থেকে বৌদ্ধপাড়া পর্যন্ত খালের পুনঃখননকাজ শেষ হওয়ায় পানির প্রবাহ ফিরেছে মৃতপ্রায় এ জলপথে। এতে সেচ সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি কৃষিকাজে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দখল, দূষণ ও পলি জমে খালটি প্রায় ভরাট হয়ে গিয়েছিল। ফলে শুষ্ক মৌসুমে মিঠাপানির সংকটে পড়তে হতো দুই ইউনিয়নের কৃষকদের। অনেক সময় পানির অভাবে প্রায় ৫ হাজার একর কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকত। লবণাক্ত পানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতো হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুও। কৃষিকাজে নানা সংকটের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়তেন অনেক কৃষক।

সম্প্রতি খালটি পুনঃখননের কাজ শেষ হওয়ায় পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। খালে আবারও পানির প্রবাহ শুরু হওয়ায় কৃষকরা সেচ সুবিধা পাওয়ার আশা করছেন। স্থানীয়রা বলছেন, কৃষির পাশাপাশি খালটির পুনঃখননের ফলে বালিয়াতলী বাজারসহ আশপাশের বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বনির্ভর খালের হাড়িপাড়া থেকে বৌদ্ধপাড়া পর্যন্ত ১ হাজার ৪৫০ মিটার অংশ পুনঃখনন করা হয়েছে। খালের ওপরের অংশের প্রস্থ ২২ মিটার এবং তলদেশের প্রস্থ ১২ মিটার। এ কাজে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ৫ হাজার ২৭৯ টাকা।

খাল পুনঃখননের পাশাপাশি এর দুই পাড়ে ফলদ ও বনজ বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। লাল-সবুজ রঙের প্লাস্টিকের বেড়া দিয়ে খালের দুই পাড়কে সাজানো হয়েছে। ফলে কৃষি ও পানির সুবিধার পাশাপাশি খালটি এলাকার সৌন্দর্যও বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় জ্যেষ্ঠ বাসিন্দারা জানান, ১৯৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পটুয়াখালীর কলাপাড়া সফরে এসে স্বনির্ভর খালটি খনন করেছিলেন। সময়ের ব্যবধানে খালটি দখল ও পলিতে ভরাট হয়ে পানিপ্রবাহ হারিয়ে ফেলে। এতে দুই ইউনিয়নের কৃষি ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকট দেখা দেয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোকছেদুল আলম বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পটুয়াখালীর কলাপাড়া সফরে এসে এ স্বনির্ভর খালটি খনন করেছিলেন। আমরা খালের ১ হাজার ৪৫০ মিটার অংশ পুনঃখননের কাজ বাস্তবায়ন করেছি। বাকি অংশ পুনঃখননের জন্য এমপি মহোদয় ডিও লেটার দিয়েছেন। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ওই অংশের কাজও শুরু করা হবে।’

মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মনিবর রহমান খন্দকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষ স্বনির্ভর খালটি পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, বিগত ১৫ বছরে খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো দখল হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সরকার কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের জন্য তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে চলছে। আমার নির্বাচনী এলাকার কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে আরও কিছু খাল পুনঃখননের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’

খাল পুনঃখননের ফলে দীর্ঘদিনের পানিসংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। তাঁদের মতে, খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকলে কৃষিকাজের পরিধি বাড়বে এবং এলাকার কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


৪৫ বছর পর প্রাণ ফিরল স্বনির্ভর খালে, স্বস্তি ফিরেছে কলাপাড়ার কৃষকদের

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছর পর পুনঃখননের মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত স্বনির্ভর খাল। হাড়িপাড়া থেকে বৌদ্ধপাড়া পর্যন্ত খালের পুনঃখননকাজ শেষ হওয়ায় পানির প্রবাহ ফিরেছে মৃতপ্রায় এ জলপথে। এতে সেচ সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি কৃষিকাজে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।


স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দখল, দূষণ ও পলি জমে খালটি প্রায় ভরাট হয়ে গিয়েছিল। ফলে শুষ্ক মৌসুমে মিঠাপানির সংকটে পড়তে হতো দুই ইউনিয়নের কৃষকদের। অনেক সময় পানির অভাবে প্রায় ৫ হাজার একর কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকত। লবণাক্ত পানির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতো হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুও। কৃষিকাজে নানা সংকটের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়তেন অনেক কৃষক।


সম্প্রতি খালটি পুনঃখননের কাজ শেষ হওয়ায় পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। খালে আবারও পানির প্রবাহ শুরু হওয়ায় কৃষকরা সেচ সুবিধা পাওয়ার আশা করছেন। স্থানীয়রা বলছেন, কৃষির পাশাপাশি খালটির পুনঃখননের ফলে বালিয়াতলী বাজারসহ আশপাশের বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বনির্ভর খালের হাড়িপাড়া থেকে বৌদ্ধপাড়া পর্যন্ত ১ হাজার ৪৫০ মিটার অংশ পুনঃখনন করা হয়েছে। খালের ওপরের অংশের প্রস্থ ২২ মিটার এবং তলদেশের প্রস্থ ১২ মিটার। এ কাজে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ৫ হাজার ২৭৯ টাকা।


খাল পুনঃখননের পাশাপাশি এর দুই পাড়ে ফলদ ও বনজ বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। লাল-সবুজ রঙের প্লাস্টিকের বেড়া দিয়ে খালের দুই পাড়কে সাজানো হয়েছে। ফলে কৃষি ও পানির সুবিধার পাশাপাশি খালটি এলাকার সৌন্দর্যও বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


স্থানীয় জ্যেষ্ঠ বাসিন্দারা জানান, ১৯৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পটুয়াখালীর কলাপাড়া সফরে এসে স্বনির্ভর খালটি খনন করেছিলেন। সময়ের ব্যবধানে খালটি দখল ও পলিতে ভরাট হয়ে পানিপ্রবাহ হারিয়ে ফেলে। এতে দুই ইউনিয়নের কৃষি ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকট দেখা দেয়।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোকছেদুল আলম বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পটুয়াখালীর কলাপাড়া সফরে এসে এ স্বনির্ভর খালটি খনন করেছিলেন। আমরা খালের ১ হাজার ৪৫০ মিটার অংশ পুনঃখননের কাজ বাস্তবায়ন করেছি। বাকি অংশ পুনঃখননের জন্য এমপি মহোদয় ডিও লেটার দিয়েছেন। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ওই অংশের কাজও শুরু করা হবে।’


মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মনিবর রহমান খন্দকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষ স্বনির্ভর খালটি পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, বিগত ১৫ বছরে খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে উল্টো দখল হয়েছে।


স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সরকার কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের জন্য তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে চলছে। আমার নির্বাচনী এলাকার কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে আরও কিছু খাল পুনঃখননের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’


খাল পুনঃখননের ফলে দীর্ঘদিনের পানিসংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। তাঁদের মতে, খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকলে কৃষিকাজের পরিধি বাড়বে এবং এলাকার কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৪৫ বছর পর প্রাণ ফিরল স্বনির্ভর খালে, স্বস্তি ফিরেছে কলাপাড়ার কৃষকদের
0:00 0:00
1.0x