‘উৎপাদনশীলতা বাড়াই, সমৃদ্ধি ত্বরান্বিত করি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বাড়ানো, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মারুফ বিল্লা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি নেছারউদ্দিন আহমেদ টিপু, খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জব্বার এবং স্থানীয় কৃষক মোস্তফা জামান।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে উৎপাদনশীলতার বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও কৃষি—সব ক্ষেত্রেই কাজের দক্ষতা ও উৎপাদনের মান বাড়ানো প্রয়োজন। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা গেলে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতির গতিও ত্বরান্বিত হবে।
কৃষিখাতে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে বক্তারা বলেন, সময়ের সঙ্গে কৃষির ধরন ও প্রযুক্তি পরিবর্তন হচ্ছে। তাই কৃষকদের সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদে উৎসাহিত করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার করলে কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের শ্রম ও সময়ের সাশ্রয় সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য শুধু কৃষি খাতের উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তোলাও জরুরি। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে। এতে ব্যক্তি পর্যায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতাও বাড়বে।
সভায় জাতীয় অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কাজের দক্ষতা, গুণগত মান এবং সময়ের যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত