রাজধানী ঢাকায় বিএনপির নেতাকর্মী পরিচয় দেওয়া একটি দলের বিরুদ্ধে নিজেদের আটক করে শারীরিক নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ করেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এবং বাউফল সরকারি কলেজের সাবেক নেতা রাইজুল আহম্মেদ তাফসান। তার দাবি, একই ঘটনায় তার সঙ্গে আরও তিনজনকে আটক করা হয়েছিল।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এ অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন তাফসান।
ফেসবুক পোস্টে তাফসান জানান, বাউফল পৌরসভার সাবেক মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলকে আদালতে নেওয়ার খবর পেয়ে তাকে একনজর দেখার উদ্দেশ্যে তারা দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অপেক্ষা করছিলেন। পরে জিয়াউল হক জুয়েলকে পিজন ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার পর তারা সেখান থেকে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি।
তাফসানের ভাষ্য, আদালত এলাকা থেকে কিছুটা দূরে যাওয়ার পর পূর্বপরিকল্পিতভাবে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল তাদের পথরোধ করে আটক করে। প্রথমে ওই ব্যক্তিদের ডিবি পুলিশ বলে মনে হয়েছিল জানিয়ে তিনি দাবি করেন, পরে তারা বিএনপির নেতাকর্মী বলে পরিচয় দেন।
তাফসান আরও দাবি করেন, এ সময় তার সঙ্গে বাউফল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মাইদুল ইসলাম মেহেদী, বাউফল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদ এবং জিয়াউল হক জুয়েলের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নাসিরকেও আটক করা হয়। তাদের রাজধানীর মালিটোলা এলাকা থেকে আটক করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, আটকের পর তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পেছনে শাঁখারীবাজারসংলগ্ন একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রায় চার ঘণ্টা তাদের আটকে রাখা হয়। তাফসানের দাবি, ওই সময়ে তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং মুক্তির বিনিময়ে টাকা দাবি করা হয়।
টাকা না দিলে তাদের মেরে ফেলা অথবা পুলিশের কাছে তুলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন তাফসান। পরে একপর্যায়ে মুক্তিপণ দেওয়ার পর তারা ছাড়া পান বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার পর থেকে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ রয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তাফসান। একই সঙ্গে নিজের এবং ঘটনার সঙ্গে থাকা অন্যদের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি।
তবে তাফসানের অভিযোগে বিএনপির কোনো নির্দিষ্ট নেতা বা কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে।
মতামত