ঢাকা    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

বিভাগ চালুর আগেই সনদ! আমতলীর কলেজে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ



বিভাগ চালুর আগেই সনদ! আমতলীর কলেজে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ
বিভাগ চালুর আগেই সনদ! আমতলীর কলেজে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

বরগুনার আমতলী উপজেলার ড. মো. শহীদুল ইসলাম কলেজে একাডেমিক নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ড. মো. শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মাসুমা আক্তার খাদিজার নিয়োগ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ব্যবহৃত সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ না করেই তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে অধ্যক্ষ পদে যাওয়ার যোগ্যতা দেখাতে একটি সনদ দাখিল করা হয়েছে।

নথিপত্র পর্যালোচনার দাবি অনুযায়ী, মাসুমা আক্তার খাদিজাকে ২০১৩ সালে কলেজটিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নিয়োগের সময় তাঁর প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পরবর্তী সময়ে অধ্যক্ষ পদের যোগ্যতা দেখাতে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন বিষয়ে বিএ (সম্মান) পাসের একটি সনদ দাখিল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

যে সনদ ঘিরে প্রশ্ন

দাখিল করা সনদে উল্লেখ রয়েছে, মাসুমা আক্তার খাদিজা ২০০৫ সালে প্রথম সেমিস্টার এবং ২০০৮ সালে চূড়ান্ত সেমিস্টার সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময়কাল এবং সনদে উল্লেখিত শিক্ষাবর্ষের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এ নিয়েই মূল প্রশ্ন উঠেছে।

নথিপত্র বিশ্লেষণের দাবি অনুযায়ী, তিনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন বিভাগের সনদ ব্যবহার করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই বিভাগের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময়ের সঙ্গে সনদে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। ফলে সনদটির বৈধতা ও প্রকৃত শিক্ষাজীবন যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক রেকর্ড, ভর্তি-তথ্য, পরীক্ষার ফলাফল ও বিভাগ চালুর অনুমোদনসংক্রান্ত নথি যাচাই করা হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কামিলের পর স্নাতক সনদ নিয়ে প্রশ্ন

সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায়, মাসুমা আক্তার খাদিজার মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে কামিল পাসের তথ্য রয়েছে। একই সঙ্গে অধ্যক্ষ পদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত বিএ (সম্মান) সনদ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ অবস্থায় তাঁর নিয়োগের সময়কার যোগ্যতা, পরবর্তী সময়ে অর্জিত বলে দাবি করা সনদের বৈধতা এবং ওই সনদের ভিত্তিতে পদোন্নতি বা এমপিওভুক্তির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

এমপিওভুক্তি নিয়ে নতুন প্রশ্ন

অভিযোগের আরেকটি দিক হলো, সরকারি এমপিও সুবিধার আওতায় নেওয়ার প্রক্রিয়ায় ওই শিক্ষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা। অভিযোগকারীদের দাবি, যোগ্যতা ও সনদের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই না করে এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হলে সরকারি অর্থে বেতন-ভাতা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট সব নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা প্রশাসনের বক্তব্য প্রয়োজন।

কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ড. মো. শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রীর নিয়োগে প্রভাব বিস্তার এবং সরকারি এমপিও সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য অর্থ দাবি করার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।

তদন্তে স্বচ্ছতা চান সংশ্লিষ্টরা

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমপিওভুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, সনদের সত্যতা এবং নিয়োগবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা যাচাই করা জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রশাসনের মূল নথি যাচাই, নিয়োগ বোর্ডের কার্যবিবরণী পর্যালোচনা এবং সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে লিখিত প্রত্যয়ন নেওয়া প্রয়োজন। এতে সনদটির সত্যতা এবং নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হতে পারে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারি অর্থের সম্ভাব্য অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিভাগ চালুর আগেই সনদ! আমতলীর কলেজে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বরগুনার আমতলী উপজেলার ড. মো. শহীদুল ইসলাম কলেজে একাডেমিক নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ড. মো. শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মাসুমা আক্তার খাদিজার নিয়োগ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ব্যবহৃত সনদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ না করেই তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে অধ্যক্ষ পদে যাওয়ার যোগ্যতা দেখাতে একটি সনদ দাখিল করা হয়েছে।


নথিপত্র পর্যালোচনার দাবি অনুযায়ী, মাসুমা আক্তার খাদিজাকে ২০১৩ সালে কলেজটিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নিয়োগের সময় তাঁর প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পরবর্তী সময়ে অধ্যক্ষ পদের যোগ্যতা দেখাতে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন বিষয়ে বিএ (সম্মান) পাসের একটি সনদ দাখিল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।


যে সনদ ঘিরে প্রশ্ন


দাখিল করা সনদে উল্লেখ রয়েছে, মাসুমা আক্তার খাদিজা ২০০৫ সালে প্রথম সেমিস্টার এবং ২০০৮ সালে চূড়ান্ত সেমিস্টার সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময়কাল এবং সনদে উল্লেখিত শিক্ষাবর্ষের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—এ নিয়েই মূল প্রশ্ন উঠেছে।


নথিপত্র বিশ্লেষণের দাবি অনুযায়ী, তিনি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন বিভাগের সনদ ব্যবহার করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেই বিভাগের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময়ের সঙ্গে সনদে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। ফলে সনদটির বৈধতা ও প্রকৃত শিক্ষাজীবন যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।


এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক রেকর্ড, ভর্তি-তথ্য, পরীক্ষার ফলাফল ও বিভাগ চালুর অনুমোদনসংক্রান্ত নথি যাচাই করা হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


কামিলের পর স্নাতক সনদ নিয়ে প্রশ্ন


সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায়, মাসুমা আক্তার খাদিজার মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে কামিল পাসের তথ্য রয়েছে। একই সঙ্গে অধ্যক্ষ পদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত বিএ (সম্মান) সনদ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


এ অবস্থায় তাঁর নিয়োগের সময়কার যোগ্যতা, পরবর্তী সময়ে অর্জিত বলে দাবি করা সনদের বৈধতা এবং ওই সনদের ভিত্তিতে পদোন্নতি বা এমপিওভুক্তির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।


এমপিওভুক্তি নিয়ে নতুন প্রশ্ন


অভিযোগের আরেকটি দিক হলো, সরকারি এমপিও সুবিধার আওতায় নেওয়ার প্রক্রিয়ায় ওই শিক্ষকের নাম অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা। অভিযোগকারীদের দাবি, যোগ্যতা ও সনদের বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই না করে এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হলে সরকারি অর্থে বেতন-ভাতা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।


তবে অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট সব নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা প্রশাসনের বক্তব্য প্রয়োজন।


কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ড. মো. শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রীর নিয়োগে প্রভাব বিস্তার এবং সরকারি এমপিও সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য অর্থ দাবি করার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।


তদন্তে স্বচ্ছতা চান সংশ্লিষ্টরা


স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমপিওভুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, সনদের সত্যতা এবং নিয়োগবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা যাচাই করা জরুরি।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রশাসনের মূল নথি যাচাই, নিয়োগ বোর্ডের কার্যবিবরণী পর্যালোচনা এবং সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে লিখিত প্রত্যয়ন নেওয়া প্রয়োজন। এতে সনদটির সত্যতা এবং নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হতে পারে।


এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং সরকারি অর্থের সম্ভাব্য অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
বিভাগ চালুর আগেই সনদ! আমতলীর কলেজে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x