‘করলে সঞ্চয় ২০০ টাকা, সরকার দেবে ৪০০ টাকা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও কিশোরীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কিশোরী ও অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রণোদনার চেক, স্যানিটারি ন্যাপকিন, ছাতা, খাতা-কলম ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলার মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)-এর উদ্যোগে ‘দরিদ্র মহিলাদের জন্য সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্প (ইরেসপো)-২য় পর্যায়’-এর আওতায় এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহের নেতিবাচক প্রভাব, কিশোরীদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখা, সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং নারীদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আত্মনির্ভরশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক ও ১১৪ পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি এবং বিআরডিবি পটুয়াখালীর উপপরিচালক মো. হাসানুল হক মোল্লা। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের সভাপতি, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, বাল্যবিবাহ একটি মেয়ের শিক্ষা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই এ সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, মেয়েদের বোঝা হিসেবে না দেখে তাদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা ও দক্ষতার মাধ্যমে মেয়েদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে পারলে পরিবার ও সমাজ উভয়ই উপকৃত হবে।
তিনি আরও বলেন, সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে কুয়াকাটাকে বাল্যবিবাহমুক্ত এবং একটি সুন্দর ও সচেতন সমাজ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন, ছাতা, খাতা-কলম ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি সঞ্চয় কর্মসূচির আওতায় প্রণোদনার চেক বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, কিশোরীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা তৈরিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মতামত