পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষা, গবেষণা ও ব্যবহারিক কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও সমৃদ্ধ করতে সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা একটি গবেষণাগার এবং নবনির্মিত একটি আধুনিক গবেষণাগারের উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অভ্যন্তরে অবস্থিত পূর্বের ‘Seafood Processing, Quality and Safety Laboratory’-এর সংস্কার ও আধুনিকায়নকৃত অংশ এবং খামার ভবনে নবনির্মিত ‘Advanced Analytical Laboratory’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন HEAT-ATF Sub-project (PIN-13571)-এর সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার (SPM) ও ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান ‘Seafood Processing, Quality and Safety Laboratory’-এর আধুনিকায়নকৃত অংশের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি খামার ভবনে অবস্থিত ‘Advanced Analytical Laboratory’-এ গিয়ে নামফলক উন্মোচন ও ফিতা কাটার মাধ্যমে নতুন গবেষণাগারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ল্যাব ও প্রকল্পের ওয়েবসাইটও উদ্বোধন করা হয়।
পরে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা গবেষণাগারের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। এ সময় ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান ল্যাবে স্থাপিত আধুনিক যন্ত্রপাতির কার্যক্রম, ব্যবহারিক গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সম্ভাবনা সম্পর্কে অতিথিদের অবহিত করেন। বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে কী ধরনের নমুনা প্রস্তুত, বিশ্লেষণ ও গবেষণা করা যাবে, সে বিষয়েও তিনি বিস্তারিত তুলে ধরেন।
দ্রুত ও আধুনিক পদ্ধতিতে মৎস্যপণ্যের মান নির্ণয়ের লক্ষ্য
নতুন Advanced Analytical Laboratory-এর অন্যতম প্রধান গবেষণা লক্ষ্য হলো Fluorescence Fingerprint coupled with Chemometrics প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামুদ্রিক খাদ্য ও মৎস্যজাত পণ্যের গুণমান ও নিরাপত্তা দ্রুত, আধুনিক এবং non-invasive পদ্ধতিতে বিশ্লেষণের প্রযুক্তি উন্নয়ন করা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রচলিত পদ্ধতিতে সামুদ্রিক খাদ্য ও অন্যান্য জলজ খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নির্ণয় এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণে নমুনা প্রস্তুতসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ও শ্রমের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রক্রিয়ায় এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এর বিপরীতে ফিঙ্গারপ্রিন্টিংভিত্তিক আধুনিক বিশ্লেষণাত্মক প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে নমুনার রাসায়নিক ও ভৌত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণের সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট গবেষণার মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকসহ বিভিন্ন উপাদান শনাক্ত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়।
এ প্রযুক্তির মাধ্যমে মাছ ও অন্যান্য seafood পণ্যের freshness, quality, chemical changes, authenticity এবং বিভিন্ন quality ও safety indicator দ্রুত মূল্যায়নে fluorescence signal ও chemometric modelling ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি খাদ্যপণ্যে ভেজাল বা অনাকাঙ্ক্ষিত উপাদান শনাক্তকরণেও এ প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় থাকবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
Advanced Analytical Laboratory-তে গবেষণা ও নমুনা বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সহায়ক সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে Fluorescence Fingerprinting Instruments এবং Fourier Transform Infrared (FTIR) Spectroscopy উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ল্যাবটিতে আরও প্রায় ১৫ ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত HEAT উপপ্রকল্পের আওতায় এ গবেষণা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজারের দায়িত্বে রয়েছেন ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান।
প্রকল্পটির গবেষণার শিরোনাম ‘Development of a rapid, non-invasive and eco-friendly technology for seafood quality and safety analysis using Fluorescence Fingerprint coupled with chemometrics’।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পবিপ্রবির Advanced Analytical Laboratory দেশের মৎস্য ও seafood খাতের জন্য দ্রুত, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও non-invasive পদ্ধতিতে খাদ্যের গুণমান ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এ গবেষণাগার শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সুযোগও বাড়াবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পবিত্র দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে গবেষণাগার দুটির সার্বিক কল্যাণ ও সফলতা কামনা করা হয়।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা, গবেষক, সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ড. রাহাত মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মতামত