ঢাকা    শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

বাউফলে দোকানের তালা ভেঙে মালামাল সরানোর অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন



বাউফলে দোকানের তালা ভেঙে মালামাল সরানোর অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

পটুয়াখালীর বাউফলে আদালতে মামলা বিচারাধীন ও পুলিশি তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় একটি জুতার দোকানের তালা ভেঙে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কালাইয়া বন্দর বাজারের ‘মমতা সুজ’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক সাগর দাস অভিযোগ করেছেন, এক পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কয়েকজন ব্যক্তি দোকানে প্রবেশ করে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার জুতা ও অন্যান্য মালামাল, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং নগদ টাকা নিয়ে গেছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বাউফল হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত ‘বাউফলের কথা’ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সাগর দাস।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাগর দাস বলেন, তিনি প্রায় ২৪ বছর ধরে কালাইয়া বন্দর বাজারে ব্যবসা করে আসছেন। দোকান মালিক মো. নাঈম হোসেনের সঙ্গে করা সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দোকানটি ব্যবহারের মেয়াদ রয়েছে। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দোকান মালিক অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকা অগ্রিম এবং মাসিক ১১ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে উচ্ছেদের আশঙ্কায় তিনি আদালতের আশ্রয় নেন বলে জানান।

সাগর দাসের দাবি, দোকান নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং পুলিশি তদন্তও চলছে। এর মধ্যেই গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মো. নাঈম, সায়েম ও আলমাসসহ কয়েকজন দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

তাঁর অভিযোগ, এ সময় দোকানে থাকা প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা মূল্যের জুতা ও অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, ব্যাংকের চেক ও নগদ টাকাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার সময় বাউফল থানার এসআই মফিজুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন সাগর দাস।

তবে পুলিশের উপস্থিতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। প্রয়োজনে ভিডিও ফুটেজ দেখে বিষয়টি যাচাই করা যেতে পারে।’

এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, দোকান নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের বিষয়ে তাঁর মাধ্যমে একবার সালিস হয়েছিল। তবে কোনো পক্ষই সমঝোতায় রাজি হয়নি। দোকান খুলে মালামাল নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি জানতেন না বলেও দাবি করেন। সরিয়ে নেওয়া মালামাল বর্তমানে কোথায় রয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাগর দাস আরও অভিযোগ করেন, গত ২৩ আগস্ট কয়েকজন ব্যক্তি লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর দোকানে এসে চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর এবং দোকান ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন বলে জানান তিনি।

সাগর দাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মামলাটি সিআর-৪৫৩/২৬ নম্বরে বিচারাধীন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে আদালতে মামলা বিচারাধীন এবং বিষয়টি পুলিশি তদন্তের মধ্যে দোকানের তালা ভেঙে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। সাগর দাস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সরিয়ে নেওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে দোকান মালিক মো. নাঈম হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাগর দাস সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তিনিও পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরবেন।’ বর্তমানে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি নন বলেও জানান তিনি। দোকান থেকে সরিয়ে নেওয়া মালামাল কোথায় রয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, দোকানের মালিক নাঈম হোসেন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। সেটি আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। তবে ৫ সেপ্টেম্বর দোকানের তালা ভেঙে মালামাল নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

ঘটনার বিষয়ে ব্যবসায়ী সাগর দাসের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃত ঘটনা কী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাউফলে দোকানের তালা ভেঙে মালামাল সরানোর অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image



পটুয়াখালীর বাউফলে আদালতে মামলা বিচারাধীন ও পুলিশি তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় একটি জুতার দোকানের তালা ভেঙে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কালাইয়া বন্দর বাজারের ‘মমতা সুজ’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক সাগর দাস অভিযোগ করেছেন, এক পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কয়েকজন ব্যক্তি দোকানে প্রবেশ করে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার জুতা ও অন্যান্য মালামাল, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং নগদ টাকা নিয়ে গেছেন।


রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বাউফল হাসপাতাল সড়কে অবস্থিত ‘বাউফলের কথা’ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সাগর দাস।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাগর দাস বলেন, তিনি প্রায় ২৪ বছর ধরে কালাইয়া বন্দর বাজারে ব্যবসা করে আসছেন। দোকান মালিক মো. নাঈম হোসেনের সঙ্গে করা সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দোকানটি ব্যবহারের মেয়াদ রয়েছে। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দোকান মালিক অতিরিক্ত ৫ লাখ টাকা অগ্রিম এবং মাসিক ১১ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে উচ্ছেদের আশঙ্কায় তিনি আদালতের আশ্রয় নেন বলে জানান।


সাগর দাসের দাবি, দোকান নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং পুলিশি তদন্তও চলছে। এর মধ্যেই গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মো. নাঈম, সায়েম ও আলমাসসহ কয়েকজন দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।


তাঁর অভিযোগ, এ সময় দোকানে থাকা প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা মূল্যের জুতা ও অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, ব্যাংকের চেক ও নগদ টাকাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার সময় বাউফল থানার এসআই মফিজুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন সাগর দাস।


তবে পুলিশের উপস্থিতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। প্রয়োজনে ভিডিও ফুটেজ দেখে বিষয়টি যাচাই করা যেতে পারে।’


এসআই মফিজুল ইসলাম জানান, দোকান নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের বিষয়ে তাঁর মাধ্যমে একবার সালিস হয়েছিল। তবে কোনো পক্ষই সমঝোতায় রাজি হয়নি। দোকান খুলে মালামাল নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি জানতেন না বলেও দাবি করেন। সরিয়ে নেওয়া মালামাল বর্তমানে কোথায় রয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে হবে।


সংবাদ সম্মেলনে সাগর দাস আরও অভিযোগ করেন, গত ২৩ আগস্ট কয়েকজন ব্যক্তি লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর দোকানে এসে চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর এবং দোকান ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেয়ে পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন বলে জানান তিনি।


সাগর দাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মামলাটি সিআর-৪৫৩/২৬ নম্বরে বিচারাধীন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।


এদিকে আদালতে মামলা বিচারাধীন এবং বিষয়টি পুলিশি তদন্তের মধ্যে দোকানের তালা ভেঙে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। সাগর দাস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সরিয়ে নেওয়া মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


অভিযোগের বিষয়ে দোকান মালিক মো. নাঈম হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাগর দাস সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তিনিও পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরবেন।’ বর্তমানে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি নন বলেও জানান তিনি। দোকান থেকে সরিয়ে নেওয়া মালামাল কোথায় রয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।


বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, দোকানের মালিক নাঈম হোসেন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। সেটি আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। তবে ৫ সেপ্টেম্বর দোকানের তালা ভেঙে মালামাল নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।


ঘটনার বিষয়ে ব্যবসায়ী সাগর দাসের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃত ঘটনা কী, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
বাউফলে দোকানের তালা ভেঙে মালামাল সরানোর অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
0:00 0:00
1.0x