ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার কেওতা ঘিগড়া ফাজিল মাদরাসার পুরোনো ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা ক্ষয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনেই প্রতিদিন পাঠদান চলছে। এতে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে মাদরাসার পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ৭৮ বছর ধরে এলাকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে আসছে। বর্তমানে মাদরাসাটিতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষক রয়েছেন ৩১ জন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদরাসার পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল রয়েছে। কোথাও কোথাও দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা ক্ষয়ে গেছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনটির বিভিন্ন অংশের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকি নিয়েই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ করতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনার সময় ভবনের দেয়াল ও ছাদের ফাটল তাদের চোখে পড়ে। এতে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে ভয় আরও বেড়ে যায়। কখন ভবনের কোনো অংশ খসে পড়ে, সেই শঙ্কা কাজ করে তাদের মধ্যে।
মাদরাসার শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে বসে পড়ার সময় ভবনের ফাটলগুলো চোখে পড়ে। তখন ভয় লাগে। কখন কী ঘটে, সেই চিন্তা থাকে। আমরা দ্রুত ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ চাই।’
আরেক শিক্ষার্থী শাওন আলিফ বলেন, ‘বৃষ্টি হলে ভয় আরও বেড়ে যায়। বৃষ্টির পানিতে আমাদের বই-খাতা ভিজে যায়। আমরা নিরাপদ পরিবেশে ক্লাস করতে চাই। ভবনটি দ্রুত ঠিক করা দরকার।’
শিক্ষার্থী নূর নাহার বলেন, ‘অনেক দিনের পুরোনো ভবন। বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতি হয়েছে। প্রতিদিন এই ভবনে ক্লাস করতে আমাদের ভয় হয়।’
মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোবাশ্বের হোসাইন বলেন, ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ক্ষয় দেখা দিয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়ে তাঁরাও উদ্বিগ্ন। ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন। বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
মাদরাসার শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিদিনই আমাদের চিন্তা হয়। ভবনটির দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হুদা চমন বলেন, ‘এই মাদরাসা থেকে এলাকার বহু মানুষ পড়াশোনা করেছেন। এত পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠানের ভবন জরাজীর্ণ হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি সবার আগে বিবেচনা করা উচিত।’
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করা হলে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসা ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ ভবন দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পুরোনো ভবনটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
মতামত