ঢাকা    শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

লেজে বাঁধা দড়ি, কুয়াকাটা সৈকতে মিলল মৃত ডলফিন



লেজে বাঁধা দড়ি, কুয়াকাটা সৈকতে মিলল মৃত ডলফিন
লেজে বাঁধা দড়ি, কুয়াকাটা সৈকতে মিলল মৃত ডলফিন

পটুয়াখালী  কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের পূর্ব দিকে চর গঙ্গামতি এলাকায় জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে এসেছে প্রায় ছয় ফুট দীর্ঘ একটি মৃত বটলনোজ ডলফিন। ডলফিনটির লেজে বাঁধা ছিল একটি দড়ি। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্য আব্দুল জলিল প্রথমে ডলফিনটির মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবেশকর্মী, কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি, বন বিভাগ এবং বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তারা ডলফিনটির মরদেহ উদ্ধার করেন।

উদ্ধারের সময় দেখা যায়, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে পুরুষ প্রজাতির বটলনোজ ডলফিনটির শরীরের চামড়া উঠে গেছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল, প্রাণীটির লেজে একটি দড়ি বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।

ঘটনাস্থলে ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্য ও পরিবেশকর্মীরা জানান, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে মরদেহটিতে দ্রুত পচন ধরছিল। এতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে মরদেহটি নির্ধারিত স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

তবে ডলফিনটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত অথবা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে সামুদ্রিক প্রাণীদের শরীরে প্রায়ই জাল ও দড়ির উপস্থিতি পাওয়ায় উপকূলীয় জেলেদের ব্যবহৃত মাছ ধরার জালের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, কুয়াকাটা উপকূলে ২০২৩ সালে ১৫টি, ২০২৪ সালে ১০টি, ২০২৫ সালে ১৭টি এবং ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১৬টি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি কুয়াকাটা উপকূল থেকে প্রায় ৬০ ফুট লম্বা দুটি মৃত তিমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে একাধিক ইরাবতী ডলফিন, শুশুক, স্পিনার ডলফিন ও সামুদ্রিক কচ্ছপের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছ ধরার অবৈধ জালে আটকে শ্বাসরুদ্ধ হওয়া, নৌযানের ধাক্কা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং তেল বা রাসায়নিক দূষণ সামুদ্রিক প্রাণীদের মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে।

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় ডলফিন ও কচ্ছপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় একের পর এক সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু পরিবেশের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা।

তিনি বলেন, এ সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সমন্বিত গবেষণা প্রয়োজন। পাশাপাশি সাগরে নজরদারি বাড়ানো, জেলেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং কার্যকর সামুদ্রিক সংরক্ষণব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি।

স্থানীয় পরিবেশবাদীরাও সামুদ্রিক প্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগ দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


লেজে বাঁধা দড়ি, কুয়াকাটা সৈকতে মিলল মৃত ডলফিন

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালী  কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের পূর্ব দিকে চর গঙ্গামতি এলাকায় জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে এসেছে প্রায় ছয় ফুট দীর্ঘ একটি মৃত বটলনোজ ডলফিন। ডলফিনটির লেজে বাঁধা ছিল একটি দড়ি। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।


শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্য আব্দুল জলিল প্রথমে ডলফিনটির মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পরিবেশকর্মী, কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি, বন বিভাগ এবং বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তারা ডলফিনটির মরদেহ উদ্ধার করেন।


উদ্ধারের সময় দেখা যায়, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে পুরুষ প্রজাতির বটলনোজ ডলফিনটির শরীরের চামড়া উঠে গেছে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল, প্রাণীটির লেজে একটি দড়ি বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।


ঘটনাস্থলে ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্য ও পরিবেশকর্মীরা জানান, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে মরদেহটিতে দ্রুত পচন ধরছিল। এতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে মরদেহটি নির্ধারিত স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।


তবে ডলফিনটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্ত অথবা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে সামুদ্রিক প্রাণীদের শরীরে প্রায়ই জাল ও দড়ির উপস্থিতি পাওয়ায় উপকূলীয় জেলেদের ব্যবহৃত মাছ ধরার জালের ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, কুয়াকাটা উপকূলে ২০২৩ সালে ১৫টি, ২০২৪ সালে ১০টি, ২০২৫ সালে ১৭টি এবং ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১৬টি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে।


এ ছাড়া সম্প্রতি কুয়াকাটা উপকূল থেকে প্রায় ৬০ ফুট লম্বা দুটি মৃত তিমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে একাধিক ইরাবতী ডলফিন, শুশুক, স্পিনার ডলফিন ও সামুদ্রিক কচ্ছপের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছ ধরার অবৈধ জালে আটকে শ্বাসরুদ্ধ হওয়া, নৌযানের ধাক্কা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং তেল বা রাসায়নিক দূষণ সামুদ্রিক প্রাণীদের মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে।


কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় ডলফিন ও কচ্ছপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় একের পর এক সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু পরিবেশের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা।


তিনি বলেন, এ সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সমন্বিত গবেষণা প্রয়োজন। পাশাপাশি সাগরে নজরদারি বাড়ানো, জেলেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং কার্যকর সামুদ্রিক সংরক্ষণব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি।


স্থানীয় পরিবেশবাদীরাও সামুদ্রিক প্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগ দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
লেজে বাঁধা দড়ি, কুয়াকাটা সৈকতে মিলল মৃত ডলফিন
0:00 0:00
1.0x