পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে লোহালিয়া সেতু হয়ে দশমিনা ও বাউফল উপজেলায় যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। কয়েক বছর ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ ও গর্ত। এতে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহনকে। পাশাপাশি ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় সড়কটির সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে কবে নাগাদ এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্ত এতটাই বড় হয়ে গেছে যে যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সড়কের এমন পরিস্থিতিতে ভ্যানচালকদের অনেক সময় ভ্যানে বসে চলাচলের পরিবর্তে পায়ে হেঁটে ভ্যান টেনে নিতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, একসময় এই সড়ক দিয়ে রিকশা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করত। এখন সড়কের বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এমনকি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসও সড়কটি এড়িয়ে অতিরিক্ত পথ ঘুরে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছে।
পটুয়াখালী থেকে দশমিনা যাতায়াতের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশ অংশ বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের মাঝখানে তৈরি হওয়া বড় বড় গর্তে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি বেড়েছে যাতায়াতে সময় ও পরিবহন ব্যয়।
সড়কের বেহাল অবস্থার প্রভাব পড়েছে দুই উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ওপরও। উৎপাদিত কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারজাত করতে না পারায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় পরিবহনের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটির এমন দুরবস্থা হয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। দ্রুত সংস্কার করা না হলে দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।
তবে বেহাল সড়কে সাময়িক স্বস্তি দিতে সম্প্রতি বড় বড় গর্তে ইট দিয়ে মেরামতের কাজ শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় এই মুহূর্তে পুরো সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
এলজিইডি পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়ালিয়ার রহমান বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত বড় গর্তগুলোতে ইট দিয়ে সংস্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে সদর উপজেলার লোহালিয়া, ভুড়িয়া ও কমলাপুর হয়ে বাউফল উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা কালাইয়া বন্দরে যাতায়াতের অন্যতম সহজ পথ এই সড়ক। পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্য ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতির জন্যও সড়কটির গুরুত্ব রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িকভাবে গর্ত মেরামত না করে দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সংস্কার ও উন্নয়ন করা প্রয়োজন। এতে দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্যপণ্য পরিবহন এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি ফিরবে।
মতামত