পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন দিন বয়সী এক নবজাতকের পা ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কর্মরত এক নার্সের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে পৌর শহরের ফেরিঘাট সংলগ্ন ম্যাক্স হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডের ফটোথেরাপি কক্ষে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে শিশুটির পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা রেজাউলের স্ত্রী জান্নাতি আক্তার কনা সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য গত শনিবার ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই রাতেই চিকিৎসক তাসলিমা ফেরদৌসী রিমার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।
মঙ্গলবার সকালে নবজাতকের চোখে হলুদাভ ভাব দেখা দিলে তাকে ফটোথেরাপি দেওয়ার জন্য কর্তব্যরত এক নার্স থেরাপি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই শিশুটি অস্বাভাবিকভাবে ও উচ্চস্বরে কান্না শুরু করে।
পরে এক্স-রে প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বজনরা জানতে পারেন, নবজাতকের একটি পা ভেঙে দুই টুকরো হয়ে গেছে।
শিশুটির বাবা রেজাউল ও মা জান্নাতি আক্তার কনার অভিযোগ, ফটোথেরাপি দেওয়ার সময় নার্সের চরম অবহেলা ও অসাবধানতার কারণেই তাদের তিন দিন বয়সী সন্তানের পা ভেঙে গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত নার্সের নাম বা পরিচয় জানাতে পারেননি তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ম্যাক্স হাসপাতালের শেয়ারহোল্ডার ও মালিকানার অংশীদার মো. নাহিদ বলেন, নবজাতকের পা কীভাবে ভেঙেছে, সে বিষয়ে তারা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি। তবে শিশুটির উন্নত চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহন করবে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তেনমং বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত