ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
পটুয়াখালী টুডে

আইফোন কেনার টাকার জন্য দেড় বছরের সন্তানকে বিক্রির অভিযোগ, উদ্ধারে পুলিশ



আইফোন কেনার টাকার জন্য দেড় বছরের সন্তানকে বিক্রির অভিযোগ, উদ্ধারে পুলিশ
আইফোন কেনার টাকার জন্য দেড় বছরের সন্তানকে বিক্রির অভিযোগ, উদ্ধারে পুলিশ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় আইফোন কেনার অর্থ জোগাড় করতে নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক কাঠমিস্ত্রি বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত বাবা মো. মারুফ ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি। তাঁর দেড় বছরের শিশুপুত্রের নাম মুসা।

বাজারে যাওয়ার কথা বলে শিশুকে নিয়ে বের হন বাবা

শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগমের ভাষ্য, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মারুফ তাঁর ছেলেকে ভালোভাবে সাজিয়ে দিতে বলেন। পরে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা জানিয়ে শিশু মুসাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি।

কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও বাবা-ছেলে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ঢাকায় থাকা মারুফের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করেন। তাঁর মামা বাহাদুর মিয়ার সঙ্গেও কথা বলা হয়।

পরিবারের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মারুফ শিশুটিকে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন।

এক লাখ টাকায় লিখিত চুক্তির দাবি

পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মারুফ দাবি করেছেন—আইফোন কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে তিনি দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে শিশু মুসাকে এক লাখ টাকায় লিখিত চুক্তির মাধ্যমে দিয়ে দেন।

পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া ওই টাকা দিয়ে মারুফ ঢাকায় গিয়ে একটি নতুন আইফোন কেনেন।

তবে শিশুটিকে কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে হস্তান্তর করা হয়েছে, এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

দাদির আকুতি, ‘নাতিকে ফিরে পেতে চাই’

শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আমার নাতিকে ফেরত চাই। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, তা আমরা ভাবতেই পারছি না। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত আমার নাতিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় চার বছর আগে মারুফ সাভারের বৃষ্টি নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। প্রায় চার সপ্তাহ আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁর স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। এ সময় মারুফ ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তিনি বাড়িতে ফেরেন। এর পরদিনই শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার ঘটনা ঘটে।

শিশুকে নেওয়ার কথা স্বীকার ইমরানের

অভিযোগের বিষয়ে ইমরান হোসেন শিশুটিকে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁর শ্বশুরের কোনো ছেলে সন্তান নেই। এ কারণে আলোচনা করে মারুফের কাছ থেকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে শিশুটিকে নেওয়া হয়েছে।

ইমরানের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শিশুটিকে তাঁর শ্বশুরের বাড়িতে রাখা হয়েছে।

দ্রুত উদ্ধারের দাবি স্থানীয়দের

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুকে হস্তান্তর ও নেওয়ার ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের মতে, একটি শিশুকে অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করা প্রয়োজন।

পুলিশের অভিযান

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, শিশুকে বিক্রির অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তাকে উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিশুটিকে অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তরের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

পটুয়াখালী টুডে

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আইফোন কেনার টাকার জন্য দেড় বছরের সন্তানকে বিক্রির অভিযোগ, উদ্ধারে পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় আইফোন কেনার অর্থ জোগাড় করতে নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক কাঠমিস্ত্রি বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।


শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।


অভিযুক্ত বাবা মো. মারুফ ওই গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি। তাঁর দেড় বছরের শিশুপুত্রের নাম মুসা।


বাজারে যাওয়ার কথা বলে শিশুকে নিয়ে বের হন বাবা


শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগমের ভাষ্য, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মারুফ তাঁর ছেলেকে ভালোভাবে সাজিয়ে দিতে বলেন। পরে বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা জানিয়ে শিশু মুসাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি।


কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও বাবা-ছেলে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ঢাকায় থাকা মারুফের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ করেন। তাঁর মামা বাহাদুর মিয়ার সঙ্গেও কথা বলা হয়।


পরিবারের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মারুফ শিশুটিকে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন।


এক লাখ টাকায় লিখিত চুক্তির দাবি


পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মারুফ দাবি করেছেন—আইফোন কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে তিনি দশমিনা উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের রোমানাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে শিশু মুসাকে এক লাখ টাকায় লিখিত চুক্তির মাধ্যমে দিয়ে দেন।


পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে দেওয়ার বিনিময়ে পাওয়া ওই টাকা দিয়ে মারুফ ঢাকায় গিয়ে একটি নতুন আইফোন কেনেন।


তবে শিশুটিকে কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে হস্তান্তর করা হয়েছে, এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।


দাদির আকুতি, ‘নাতিকে ফিরে পেতে চাই’


শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আমার নাতিকে ফেরত চাই। কী কারণে এমন ঘটনা ঘটল, তা আমরা ভাবতেই পারছি না। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত আমার নাতিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’


পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় চার বছর আগে মারুফ সাভারের বৃষ্টি নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। প্রায় চার সপ্তাহ আগে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাঁর স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান। এ সময় মারুফ ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তিনি বাড়িতে ফেরেন। এর পরদিনই শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার ঘটনা ঘটে।


শিশুকে নেওয়ার কথা স্বীকার ইমরানের


অভিযোগের বিষয়ে ইমরান হোসেন শিশুটিকে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁর শ্বশুরের কোনো ছেলে সন্তান নেই। এ কারণে আলোচনা করে মারুফের কাছ থেকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে শিশুটিকে নেওয়া হয়েছে।


ইমরানের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শিশুটিকে তাঁর শ্বশুরের বাড়িতে রাখা হয়েছে।


দ্রুত উদ্ধারের দাবি স্থানীয়দের


ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশুকে হস্তান্তর ও নেওয়ার ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাঁদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


স্থানীয়দের মতে, একটি শিশুকে অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করা প্রয়োজন।


পুলিশের অভিযান


দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, শিশুকে বিক্রির অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তাকে উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।


তিনি আরও জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।


পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে শিশুটির অবস্থান নিশ্চিত করে তাকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিশুটিকে অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তরের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


পটুয়াখালী টুডে

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান: মোঃ আতিকুল ইসলাম
ভাইস চেয়ারম্যান: মোঃ জাকারিয়া হোসেন
প্রকাশক ও সম্পাদক: মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয়
নির্বাহী সম্পাদক: আব্দুর রহিম মেহেদী
বার্তা সম্পাদক: মোঃ মাসুদ খান

কপিরাইট © ২০২৬ পটুয়াখালী টুডে । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
আইফোন কেনার টাকার জন্য দেড় বছরের সন্তানকে বিক্রির অভিযোগ, উদ্ধারে পুলিশ
0:00 0:00
1.0x