নিজের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পটুয়াখালীর মহিপুর সদর ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মহিপুর থানা যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান লিমন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ভিডিওটির উৎস ও এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে মহিপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন লিমন খান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদকবিরোধী বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিমনের দাবি, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাঁর নাম ও পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ভিডিওটির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং ভিডিওতে প্রদর্শিত কোনো কর্মকাণ্ডের বিষয়েও তিনি অবগত নন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান।
তিনি বলেন, ভিডিওটি কারা তৈরি করেছে, কোথা থেকে এর উৎপত্তি এবং কী উদ্দেশ্যে এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে—এসব বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তাই যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা গোষ্ঠীকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করতে চান না।
লিখিত বক্তব্যে লিমন আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক অবস্থানকে বিতর্কিত করা এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব প্রচারণায় তিনি বিচলিত নন।
তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান অতীতেও ছিল, বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের অপপ্রচার তাঁকে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলা থেকে বিরত রাখতে পারবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে লিমন বলেন, কোনো ভিডিও, ছবি বা তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে সেটি শেয়ার কিংবা পুনঃপ্রচার করা উচিত নয়। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য ছড়িয়ে পড়লে একজন নিরপরাধ মানুষের সামাজিক মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
প্রচারিত ভিডিওটির প্রকৃত উৎস শনাক্ত, এর তৈরির প্রক্রিয়া ও প্রচারের সঙ্গে কারা জড়িত—তা খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তদন্তে কেউ আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মহিপুর থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান প্যাদা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি যুবনেতা লিমনকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ভিডিওটির সঙ্গে লিমনের কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করে তিনি এ ধরনের প্রচারণার প্রতিবাদ জানান।
এ বিষয়ে মহিপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহজাহান পারভেজও প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে এবং যুবনেতা লিমনকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তিনি নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, মিথ্যা প্রচারণার মাধ্যমে সাময়িকভাবে সত্যকে আড়াল করা গেলেও শেষ পর্যন্ত সত্যই প্রতিষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য বা ভিডিও প্রচারের আগে এর সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে ভিডিওটির প্রকৃত উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে লিমন খান মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে সচেতনতা তৈরির কার্যক্রমে ভবিষ্যতেও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
মতামত